kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জানা-অজানা

মাছ ধরার চাঁই

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাছ ধরার চাঁই

[পঞ্চম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ে শখের মৃিশল্প প্রবন্ধে ‘মাছ ধরার চাঁই’-এর কথা উল্লেখ আছে]

বাঁশের শলা দিয়ে তৈরি এক ধরনের মাছের ফাঁদকে মাছ ধরার চাঁই বলে। মুলি ও মোড়ল দুই ধরনের বাঁশ দিয়েই এ চাঁই তৈরি করা হয়। মূলত এ শিল্পের বেশির ভাগ কারিগরই হলেন নারী। একটি মুলি বাঁশ দিয়ে সাধারণত ছোট মাছ ধরার চারটি চাঁই হয়, আর একটি মোড়ল বাঁশ দিয়ে কুচে, শিং, কই প্রভৃতি মাছ ধরার চাঁই হয় ২৫টি।

চাঁই তৈরির প্রধান কাঁচামাল হলো বাঁশ ও সুতা। প্রথমে বিভিন্ন মাপে বাঁশের শলা তুলে সেগুলো রোদে শুকিয়ে নিতে হয়। তারপর শুরু হয় চাঁই তৈরির কাজ। বিভিন্ন ধাপের পর একটি পরিপূর্ণ চাঁই তৈরি হয়। পানিতে মাছ চলাচল করতে করতে একসময় চাঁইয়ের ভেতরে ঢুকলে আর বের হতে পারে না। চাঁই খাল, বিল কিংবা ডুবে যাওয়া ফসলি ক্ষেতে পেতে রাখা হয়। যেখান থেকে দেশীয় প্রজাতির চিংড়ি, শোল, শিং, কই, খলিশা, পুঁটি মাছ ধরা পড়ে। তবে এখন বেশি পানিতেও ফাঁদ পাতার জন্য বড় আকারের চাঁই বানানো হয়, যাতে রুই-কাতলও ধরা পড়ে।

বর্ষাকালে দেশের প্রায় প্রতিটি গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের বাঁশের চাঁই দিয়ে মাছ শিকার করতে দেখা যায়, বিশেষ করে বরিশালের গ্রামগুলোর খাল-বিল, নদী-নালায় ফাঁদ পেতে খুব সহজেই বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ শিকার করা হয়। যুগের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফাঁদের আকার, ধরন ও নকশায় পরিবর্তন হলেও এখনো জনপ্রিয়তা কমেনি মাছের এই চাঁইয়ের। সারা বছরই চাঁই তৈরি করে থাকেন কারিগররা। তবে বর্ষার ঠিক আগমুহূর্তে বিভিন্ন গ্রামে মাছ ধরার ফাঁদ চাঁই বানানোর ধুম পড়ে যায়। বিভিন্ন আকার ও আঙ্গিকে তৈরি মাছ ধরার এ ফাঁদগুলোর রয়েছে বাহারি নাম। যেমন—চাঁই, বুচনা, গড়া, চরগড়া, খুচইন ইত্যাদি। আবার চাঁইয়ের মধ্যেও রয়েছে নামের বিভেদ। যেমন—ঘুনি চাঁই, কইয়া চাঁই, বড় মাছের চাঁই, জিহ্বা চাঁই, গুটি চাঁই ইত্যাদি।

বর্ষার শুরু থেকে সেসব চাঁই স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রির জন্য ওঠানো হয়। এসব হাট থেকে যেমন খুচরা ক্রেতারা চাঁই কেনেন, তেমনি আবার পাইকাররা কিনে নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রির জন্য পাঠান।               ► ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা