kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

ষষ্ঠ শ্রেণি

বাংলা প্রথম পত্র

লুৎফা বেগম সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলা প্রথম পত্র

গদ্য

কতকাল ধরে

আনিসুজ্জামান

 

উদ্দীপক

শহরের মেয়ে দীপা তার নানাকে নিয়ে নানাবাড়ির গ্রাম দেখতে বের হয়। তার নানা প্রথমে তাকে একটা অবস্থাপন্ন পরিবারে নিয়ে যান। এ পরিবারে তার বয়সী মেয়েরা সালোয়ার-কামিজ পরে, ঠোঁটে লিপস্টিক দেয়, হাতে চুড়ি ও কানে সোনার দুল পরে। গৃহিণীরা তাঁতের শাড়ি পরে এবং শাড়ির আঁচল টেনে ঘোমটা দেয়। তাঁদের হাতে ও গলায় স্বর্ণালংকার শোভা পাচ্ছে। এ বাড়ি পেরিয়ে দীপা এক দিনমজুরের খড়ের তৈরি ঝুপড়ি ঘরে ঢুকে পড়ে। দিনমজুরের স্ত্রীর পরনে মলিন শাড়ি, সন্তানদের পরনে ছেঁড়া হাফপ্যান্ট এবং শরীরের রুগ্ণ দশা দেখে দীপার খুব মনঃকষ্ট হয়। সে ভাবে, শত শত বছর চলে যায়, কিন্তু এ দেশের দরিদ্র মানুষের জীবনের অভাবগুলো আর চলে যায় না।

ক) বাংলাদেশের ইতিহাস কত বছরের পুরনো?

 

উত্তর

বাংলাদেশের ইতিহাস প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো।

 খ) ‘ইতিহাস বলতে বোঝায় সব মানুষের কথা’—উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।

 

উত্তর 

ইতিহাস বলতে বোঝায় সব মানুষের কথা। উক্তিটির তাৎপর্য হলো ইতিহাসে সব মানুষের কথাই স্থান পায়।

আনিসুজ্জমান রচিত ‘কতকাল ধরে’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে—ইতিহাস বলতে শুধু রাজরাজড়াদের কথাই বোঝায় না। এককালে এ দেশে যখন রাজরাজড়া ছিল না, তখন মানুষের দাম ছিল বেশি। লোকজন নিজেরাই যুক্তি-পরামর্শ করে কাজ করত, চাষ করত, ঘর বাঁধত, দেশ চালাত। তারপর রাজার সঙ্গে মন্ত্রী, সামন্ত-মহাসামন্তের দল এসে লোকলস্কর বহাল ও নিয়ম-কানুন করলেন। তখন থেকে ইতিহাসে রাজাদের নাম লেখা হলেও প্রজাসাধারণের পরিচয় জানা যায় এদের জীবনযাত্রায়।

গ) দীপার দেখা গ্রামের লোকজনের পোশাক-পরিচ্ছদের সঙ্গে হাজার বছর আগের পূর্বপুরুষদের পোশাকের যে মিল পাওয়া যায় তা বর্ণনা করো।

 

উত্তর

দীপার দেখা গ্রামের লোকজনের পোশাক-পরিচ্ছদের সঙ্গে হাজার বছর আগের পূর্বপুরুষদের পোশাকের যে মিল পাওয়া যায় তা হলো পুুরুষেরা ধুতি ও মেয়েরা শাড়ি পরত।

‘কতকাল ধরে’ রচনার হাজার বছর আগে সব পুরুষই ধুতি আর সব মেয়েই শাড়ি পরত। শুধু সচ্ছল ঘরের ছেলেরা ধুতির সঙ্গে চাদর, মেয়েরা শাড়ির সঙ্গে ওড়না ব্যবহার করত। মেয়েরা শাড়ি বা ওড়না দিয়ে ঘোমটা দিত। তবে ধুতি-ওড়না দুই-ই বহরে ছোট হতো। তাতে নানা রকম নকশাও কাটা হতো। মখমলের কাপড় পরত শুধু মেয়েরা। নানা রকম সূক্ষ্ম পাটের ও সুতার কাপড়ের চল ছিল। শুধু যোদ্ধা বা পাহারাদাররা জুতা ব্যবহার করত। সাধারণ মানুষ পায়ে পরত কাঠের খড়ম। ছাতা লাঠির ব্যবহারও ছিল।

উদ্দীপকের দীপার দেখা অবস্থাপন্ন ঘরের মেয়েরা সালোয়ার-কামিজ ও গৃহিণীরা শাড়ি পরে। দিনমজুরের স্ত্রীও শাড়ি পরে, তবে তা মলিন। উদ্দীপকের এই দিকটির সঙ্গে ‘কতকাল ধরে’ রচনার উপর্যুক্ত বক্তব্যের মিল রয়েছে।

ঘ) ‘শত শত বছর চলে যায়, কিন্তু এ দেশের মানুষের জীবনের অভাবগুলো চলে যায় না।’ উদ্দীপক ও ‘কতকাল ধরে’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

 

উত্তর

আবহমান কাল ধরে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য যেমন রয়েছে, তেমনি অভাবও দরিদ্রের নিত্যসঙ্গী।

‘কতকাল ধরে’ প্রবন্ধে লেখক বাংলাদেশের রাজরাজড়া, ধনী ও সাধারণ মানুষের জীবনের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। প্রাচীনকালেও ধনী ও সাধারণ মানুষের বাসস্থান, পোশাক সাজসজ্জায় ভিন্নতা ছিল। বড়লোকেরা ইট-কাঠের আর সাধারণ মানুষ কাঠ-খড়-মাটি-বাঁশের বাড়িতে বাস করত। সোনার অলংকার পরার সুযোগ পেত শুধু ধনীরা। সাধারণ পরিবারের মেয়েরা হাতে শাঁখা, কানে কচি কলাপাতার মাকড়ি, গলায় ফুলের মালা পরত। খাওয়াদাওয়ার নানা আয়োজন, উপকরণ ধনীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। খেলাধুলার মধ্যে ধনী-গরিবের বৈষম্য ছিল। ধনীরা ঘোড়া আর হাতির খেলা দেখত, আর গরিবরা মজা পেত ভেড়ার লড়াই, মোরগ-মুরগির লড়াই দেখে। সেকালে রাজরাজড়া ছিল, এখন নেই। কিন্তু ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য এখনো আছে। সেকালেও সাধারণ মানুষ স্বপ্ন দেখত সরু চালের, সাদা গরম ভাতের। এ কালে তারা তা-ই দেখছে।

উদ্দীপকের দীপা গ্রামের অবস্থাপন্ন ও দিনমজুরের পরিবারে গিয়ে শুধু পোশাক ও অলংকার দেখেই ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য বুঝতে পারে, যা আবহমানকাল ধরে চলে আসছে।

উদ্দীপক ও ‘কতকাল ধরে’ প্রবন্ধের আলোকে তাই বলা যায়, শত শত বছর চলে গেলেও এ দেশের দরিদ্র মানুষের জীবনের অভাব দূরীভূত হয় না।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা