kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জানা-অজানা

দানাদার ফসল

[ষষ্ঠ শ্রেণির কৃষিশিক্ষা বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ‘দানাদার ফসল’-এর কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দানাদার ফসল

দানাজাতীয় ফসলকে দানাদার ফসল বলে। প্রধানত ধান, গম, ভুট্টা, যব, কাউন ইত্যাদিই দানাদার ফসল। এগুলো তৃণজাতীয় উদ্ভিদ। এই জাতীয় ফসল আমাদের প্রধান খাদ্য। এই ফসল আমাদের শরীরে শর্করার ঘাটতি পূরণ করে।

বিশ্বের মোট উৎপন্ন দানাদার ফসলের পরিমাণ ২০০ কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি। এ ফসলে প্রায় ৭৫ শতাংশ শ্বেতসার, ১০ শতাংশ প্রোটিন এবং কিছু আনুষঙ্গিক স্নেহ পদার্থ ও আঁশ থাকে।

বাংলাদেশের মাটি ও জলবায়ু বিশেষ কয়েক ধরনের দানাদার ফসল চাষের জন্য উপযোগী। ফলন ও চাহিদা অনুযায়ী এ ফসলগুলোকে মুখ্য ও গৌণ দানাদার ফসল হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। ধান ও গম মুখ্য এবং ভুট্টা, জোয়ার, যব, বজরা, চীনা ও কাউন গৌণ দানাদার ফসল। বাংলাদেশে ধান চাষেরই প্রাধান্য। এ দেশে ফসলি জমির প্রায় ৭৫ শতাংশ ধানক্ষেত। ফসল তোলার মৌসুম অনুযায়ী ধানকে প্রধান তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যেমন—আমন (বোনা ও রোপা জাত), বোরো ও আউশ যথাক্রমে ডিসেম্বর-জানুয়ারি, মার্চ-মে ও জুলাই-আগস্ট মৌসুমে ফলে। আবার এসব জাতের মধ্যে রোপা আমন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং মোট জমির ৪৬.৩০ শতাংশ জুড়ে চাষ হয়।

ধানের পর অতি গুরুত্বপূর্ণ দানাদার ফসল গম। এর চাষ রবিশস্য হিসেবে শীতকালে হয়। কাউন, ভুট্টা ও চীনা ফলে একক বা মিশ্র চাষে।

দানাদার ফসল বিশেষ করে ধান ও গমের ওপর এ দেশের মানুষ বেশি নির্ভরশীল; কিন্তু দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য সংস্থানের জন্য ধান ও গমের মোট উৎপাদন পর্যাপ্ত নয়। তাই খাদ্যঘাটতি  মেটাতে প্রতিবছর বাড়তি দানাদার ফসল ধান তথা চাল ও গম আমদানি করতে হয়। ১৯৯২-৯৩ সালে ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৫৯ মেট্রিক টন গম ও ২০ হাজার ৭৩০ মেট্রিক টন চাল আমদানি করতে হয়েছিল। এখনো খাদ্যঘাটতি মেটাতে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণ চাল ও গম বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তবে আশার কথা হচ্ছে, বর্তমানে দানাদার ফসল উৎপাদন, বিশেষ করে ধানের উৎপাদন বহুলাংশে বেড়েছে।

           

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা