kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ষষ্ঠ শ্রেণি

বাংলা প্রথম পত্র

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাংলা প্রথম পত্র

গদ্য

কত দিকে কত কারিগর

সৈয়দ শামসুল হক

সৃজনশীল প্রশ্ন

গোলাম মাওলা একজন শৌখিন শিল্পপতি। তিনি তাঁর বাড়ির ড্রয়িংরুম মাটির তৈরি ফুলদানি, নৌকা, গরুর গাড়ি এবং বিভিন্ন মনীষীর প্রতিকৃতি দিয়ে সাজিয়েছেন। এগুলো তিনি সংগ্রহ করতে নিজেই চলে যান কুমারপাড়ার প্রবীণ কারিগরের কাছে; যিনি নামেও প্রবীণ, কাজেও প্রবীণ। মাওলা সাহেবের অভিমত, প্রবীণসহ আরো কয়েকজন পুরনো কারিগরের অবদানেই আমাদের মৃিশল্প টিকে আছে। তাঁদের মতো পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান, যত্নশীল এবং নিপুণ কারিগরের বড় অভাব আজকের দিনে। এই অভাব পূরণ করতে না পারলে আমাদের মৃিশল্প ধ্বংসের মুখে পতিত হবে।

 

ক) ‘নুরলদীনের সারাজীবন’—সৈয়দ শামসুল হকের কী ধরনের রচনা?

উত্তর : ‘নুরলদীনের সারাজীবন’ —সৈয়দ শামসুল হকের একটি নাটক।

 

খ) কেন বঙ্গবন্ধুর ছবিকে নিচে বা মধ্যে রাখা যায় না? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : বঙ্গবন্ধু নিজেই একটি দেশ ও জাতির নির্মাতা বা কারিগর। তাঁর স্থান সবার ওপরে বলে নিচে বা মধ্যে রাখা যায় না।

‘কতদিকে কত কারিগর’ রচনার লেখক কুমারদের একটি গ্রামে গিয়ে তাদের তৈরি শিল্পকর্মের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের মূর্তির পাশাপাশি জয়নুল আবেদিনের আঁকা গরুর গাড়ির চাকা ঠেলে তোলার ছবিও দেখতে পান। বঙ্গবন্ধুর কোনো ছবি আছে কি না লেখক জানতে চাইলে বৃদ্ধ পাল মশাই সবার ওপরে বঙ্গবন্ধুর দুটি ছবি দেখিয়ে বলেন, তাঁর ছবি অন্য ছবির নিচে বা মধ্যে রাখা যায় না, কারণ তাঁর স্থান সবার ওপরে।

 

গ) মাওলা সাহেবের ড্রয়িংরুমে সজ্জিত মাটির জিনিসপত্রের দ্বারা ‘কতদিকে কত কারিগর’ রচনার কোন দিকটিকে ইঙ্গিত করে—ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : মাওলা সাহেবের ড্রয়িংরুমে সজ্জিত মাটির জিনিসপত্রের দ্বারা ‘কতদিকে কত কারিগর’ রচনার যে দিকটিকে ইঙ্গিত করে, তা হলো মৃিশল্প।

‘কতদিকে কত কারিগর’ রচনায় লেখক মাটির গড়া শিল্পকর্ম ও কারিগরদের পরিচয় তুলে ধরেছেন, যারা কুমার বলে পরিচিত। একসময় কুমাররা মাটির তৈজসপত্র তৈরি করতেন। কিন্তু এখন তাঁরা মাটি দিয়ে নির্মাণ করেন খ্যাতিমানদের অবয়ব, মূর্তি। বৃদ্ধ পাল মশাই তেমনি একজন জাত শিল্পী। তাঁর তত্ত্বাবধানের শিল্পীরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন ফকির। মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ খ্যাতিমান ব্যক্তিদেরও প্রতিমূর্তি তিনি গড়েন। শুধু তা-ই নয়, ইতিহাস ও ঐতিহ্য হিসেবে পরিচিত বিষয়ও তাঁরা শিল্পকর্মের বিষয় হিসেবে বেছে নেন। তাই শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের পরিচয় না জেনেও তাঁর আঁকা ‘গরুর গাড়ি চাকা’ ঠেলে তোলার নকশাও তাঁরা তৈরি করেন।

উদ্দীপকের মাওলা সাহেবের ড্রয়িংরুমে সজ্জিত নানা উপকরণ মৃিশল্পের পরিচয় তুলে ধরে, যা ‘কতদিকে কত কারিগর’ রচনার উপর্যুক্ত বক্তব্যের দিকটিকে ইঙ্গিত করে।

 

ঘ) ‘তাঁদের মতো পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান, যত্নশীল এবং নিপুণ কারিগরের বড় অভাব আজকের দিনে।’ মাওলা সাহেবের এই অভিমত উদ্দীপক এবং ‘কতদিকে কত কারিগর’ রচনার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : দেশজ ইতিহাস-ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির পরিচয়, পরিশ্রম, যত্ন ও নিষ্ঠার সঙ্গে তুলে ধরার জন্য ‘কতদিকে কত কারিগর’ রচনার বৃদ্ধ পাল মশাইয়ের মতো নিপুণ কারিগরের আজকের দিনে বড় অভাব।

‘কতদিকে কত কারিগর’ রচনার কুমাররা হাঁড়ি-পাতিল, শরা, সানকিসহ মাটির পাটায় ফুলের নকশা, খ্যাতিমান ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি তৈরি করে। একেকটা চিত্রের জন্য কাঠের ওপর খোদাই করা নকশা আছে। তার ওপর কাদার তাল টিপে টিপে পাটা তৈরি করে তারা। কাদার তালে ফুটে ওঠে নকশা। কিশোর-যুবকদের সেসব কাজের তদারকি করেন বৃদ্ধ পাল মশাই। তিনি বাঁশের চিকন কলম দিয়ে দ্রুতগতিতে তাদের ছোটখাটো ভুল সংশোধন করে দেন। যেমন—চাঁদ সওদাগরের মুকুটের ছাঁচ, রবীন্দ্রনাথের দাড়িতে ঢেউ খেলানো ইত্যাদি। কাঁচামাটির পাটায় রবীন্দ্রনাথের দাড়িতে তিনি সূক্ষ্ম আঁচড় কাটেন। কাঠের ছাঁচে সব টানটোন ছাপছোপ ঠিক ওঠে না।

উদ্দীপকের প্রবীণ কারিগরও একজন দক্ষ কারিগর। তাঁর মতো কারিগরদের জন্য মৃিশল্প টিকে আছে বলে গোলাম মাওলা মনে করেন।

উদ্দীপক ও ‘কতদিকে কত কারিগর’ রচনার উপর্যুক্ত বক্তব্যের আলোকে তাই বলা যায়, আজকের দিনে পাল মশাই ও প্রবীণ কারিগরের মতো নিষ্ঠাবান কারিগর পাওয়া সত্যিই কঠিন।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা