kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নবম-দশম শ্রেণি
সৃজনশীল প্রশ্ন

জীববিজ্ঞান

ফারহানা রহমান, সহকারী শিক্ষক (জীববিজ্ঞান), ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, খিলগাঁও, ঢাকা

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জীববিজ্ঞান

চতুর্থ অধ্যায় : জীবনীশক্তি

সৃজনশীল প্রশ্ন

ক) জীবনীশক্তি কী?

ক) প্রস্বেদনকে কেন অতি প্রয়োজনীয় অমঙ্গল বলা হয়?

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত (i) নম্বর প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ) (ii) নম্বর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কতগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হয়, যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক) জীব কর্তৃক তার দেহে শক্তির উৎপাদন ও ব্যবহারের মৌলিক কৌশলই হচ্ছে জীবনীশক্তি।

খ) প্রস্বেদন প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের বহু ধরনের উপকার করলেও কিছু অপকারী ভূমিকা পালন করে। পানি শোষণের চেয়ে প্রস্বেদনে পানি হারানোর হার অধিক হলে উদ্ভিদের পানি ও খনিজের ঘাটতি দেখা দেবে এবং এর ফলে উদ্ভিদের মৃত্যুও হতে পারে। এ জন্য একে একটি অতি প্রয়োজনীয় অমঙ্গল বলে।

গ) উদ্ভিদের প্রদত্ত প্রক্রিয়াটি হলো সালোকসংশ্লেষণের আলোক নিরপেক্ষ পর্যায়। এ পর্যন্ত কার্বন বিজারণের মাধ্যমে শর্করা তৈরির তিনটি গতিপথ শনাক্ত করা হয়েছে। যথা : ১। ক্যালভিনচক্র ২। হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র ও ৩। ক্রাসুলেসিয়ান এসিড বিলাকচক্র। শর্করা তৈরির এ তিনটি গতিপথের মধ্যে ক্যালভিনচক্র সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য। নিচে ক্যালভিনচক্র বর্ণনা করা হলো—

বায়ুস্থ CO2 পত্ররন্ধ্রের মধ্য দিয়ে কোষে প্রবেশ করে। কোষে অবস্থিত ৫ কার্বনবিশিষ্ট রাইবুলোজ ১, ৫ ডাই-ফসফেটের সঙ্গে মিলিত হয়ে ৬ কার্বনবিশিষ্ট কিটো এসিড তৈরি করে, যা সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে গিয়ে তিন কার্বনবিশিষ্ট দুই অণু ৩ ফসফোগ্লিসারিক এসিড তৈরি হয়। অতঃপর আলোক পর্যায়ে সৃষ্ট আত্তীকরণ শক্তি ATP ও NADPH +H+ কে ব্যবহার করে ৩ ফসফোগ্লিসারিক এসিড ৩ কার্বনবিশিষ্ট ৩ ফসফেট ফসফোগ্লিসারলডিহাইড ডাই-হাইড্রক্সি অ্যাসিটোন ফসফেট তৈরি করে। ৩ ফসফোগ্লিসারলডিহাইড ও ডাই-হাইড্রক্সি অ্যাসিটোন ফসফেট থেকে ক্রমাগত বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একদিকে শর্করা এবং অন্যদিকে রাইবুলোজ ১, ৫ ডাই-ফসফেট তৈরি হয়ে থাকে। এভাবে আত্তীকরণ শক্তি কার্বন ডাই-অক্সাইডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিজারিত হয়ে শর্করা উৎপন্ন করে।

ঘ) উদ্দীপকের (ii) নম্বর প্রক্রিয়া হলো সবাত শ্বসন। সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে চারটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো—

ধাপ-১ (গ্লাইকোলাইসিস) : এ প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জারিত হয়ে দুই অণু পাইরুভিক এসিড উৎপন্ন করে। এ ধাপে চার অণু ATP (দুই অণু খরচ হয়ে যায়) এবং দুই অণু NADH+H+ উৎপন্ন হয়। এ প্রক্রিয়ায় কোনো অক্সিজেন প্রয়োজন হয় না। তাই গ্লাইকোলাইসিস সবাত ও অবাত শ্বসনেরই প্রথম ধাপ। ধাপগুলো কোষের সাইটোপ্লাজমে ঘটে থাকে।

ধাপ-২ (অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি) : গ্লাইকোলাইসিসে সৃষ্ট প্রতি অণু পাইরুভিক এসিড পর্যায়ক্রমে বিক্রিয়া শেষে ২ কার্বনবিশিষ্ট এক অণু অ্যাসিটাইল কো-এ এক অণু CO2 এবং এক অণু NADH +H+ উৎপন্ন করে। (দুই অণু পাইরুভিক এসিড থেকে দুই অণু অ্যাসিটাইল কো-এনজাইম, দুই অণু CO2 এবং দুই অণু NADH+H+ উৎপন্ন হয়)।

ধাপ-৩ (ক্রেবসচক্র) : ক্রেবসচক্রে ২ কার্বনবিশিষ্ট অ্যাসিটাইল CO-A জারিত হয়ে দুই অণু CO2 উৎপন্ন করে। এ পর্যায়ে অ্যাসিটাইল কো-এ মাইটোকন্ড্রিয়ায় প্রবেশ করে এবং ক্রেবসচক্রে অংশগ্রহণ করে। এ চক্রের সব বিক্রিয়া মাইটোকন্ড্রিয়ায় সংঘটিত হয়। CO2 ছাড়াও এ চক্রে ১ অণু অ্যাসিটাইল কো-এ থেকে ৩ অণু NADH+H+ , ১ অণু FADH2, ১ অণু GTP (গুয়ানোসিন ট্রাই-ফসফেট) উৎপন্ন হয়। অতএব, দুই অণু অ্যাসিটাইল CO-A থেকে ৪ অণু CO2, ৬ অণু NADH +H+ , দুই অণু FADH2 এবং দুই অণু GTP উৎপন্ন হয়।

ধাপ-৪ (ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র) : এ প্রক্রিয়ায় উপরোক্ত তিনটি ধাপে উৎপন্ন NADH +H+, FADH2 জারিত হয়ে ATP, পানি, ইলেকট্রন ও প্রোটন উৎপন্ন হয়। উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ইলেকট্রনগুলো ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় শক্তি নির্গত হয়। সে শক্তি ATP তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র মাইটোকন্ড্রিয়ায় সংঘটিত হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা