kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী প্রস্তুতি

বাংলা

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



বাংলা

গুরুত্বপূর্ণ রচনা

বাংলাদেশের জাতীয় ফুল

আমার প্রিয় ফুল

ভূমিকা : যে দেশেতে শাপলা শালুক ঝিলের জলে ভাসে

সে দেশেতে কলমি কমল কনক হয়ে হাসে

সে আমাদের জন্মভূমি মাতৃভূমি বাংলাদেশ।

শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল। এটি আমাদের অতি পরিচিত একটি ফুল। এটি বর্ষাকালীন ফুল হলেও অন্যান্য ঋতুতেও এ ফুল ফোটে বলে এটি জাতীয় ফুলের মর্যাদা পেয়েছে।

প্রকারভেদ : বাংলাদেশের গ্রামের বিল-ঝিল, পুকুর, ডোবা ইত্যাদি যেকোনো জলাশয়েই এ ফুলের প্রাচুর্য দেখা যায়। এ ফুল বিভিন্ন বর্ণের হয়ে থাকে। যেমন—সাদা, লাল ও বেগুনি। এ তিনটি রঙের মধ্যে সাদা রঙের শাপলাই জাতীয় ফুলের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

প্রাপ্তিস্থান ও সময় : বর্ষাকালে বাংলাদেশের জলাশয়গুলো যখন পানিতে ভরে যায়, তখন চারদিক শোভিত করে শাপলা ফুটে এক অপরূপ দৃশ্যের সূচনা করে। জ্যোত্স্না প্লাবিত রাতে বিলে-ঝিলে ফুটে থাকা শাপলা ফুল যখন মৃদু-মন্দ বাতাসে দুলতে থাকে, তখন দেখলে মনে হয় যেন এক ঝাঁক নক্ষত্র নীল আকাশ থেকে পানিতে নেমে এসেছে।

বর্ণনা : শাপলা জলজ উদ্ভিদ। এটি স্রোতবিহীন জলাশয়েই সাধারণত জন্মে। শাপলার মূল জলাশয়ের নিচে কাদার মধ্যে ডুবে থাকে। জলাশয়ের পানি বাড়লে এর ডাঁটাও বাড়তে থাকে। এর পাতা গোলাকৃতি ও আকারে থালার চেয়েও অনেক বড় হয়। থালার মতো বড় বড় পাতার ওপরে লম্বা ডাঁটাসহ বিভিন্ন রঙের শাপলা ফুটে জলাশয়ে ভেসে ওঠে। কুঁড়ি অবস্থায় শাপলা অনেকটা কলার মোচার মতো হয়ে থাকে। কুঁড়িটি আস্তে আস্তে ফুটে দু-একদিনের মধ্যেই পূর্ণতা পায়।

উপকারিতা : শাপলা ফুল শুধু তার সৌন্দর্য দিয়ে আমাদের মন ভরায় না, এটি একটি উপকারী ফুলও বটে। শাপলার ডাঁটা গ্রামাঞ্চলে, এমনকি শহরেও অনেকে সবজি হিসেবে খেয়ে থাকে। লাল রঙের শাপলা ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। গ্রামবাংলার ছেলে-মেয়েরা এ ফুল দিয়ে মালা গাঁথে। মঞ্চসজ্জার কাজেও এ ফুল ব্যবহৃত হয়। শাপলার ফুল থেকে আলুর মতো বড় বড় ফল হয়। এ ফল থেকে খই ও মোয়া তৈরি করা হয়।

উপসংহার : শাপলা ফুল বিনা যত্নে ও বিনা পরিশ্রমে জন্মে বাংলার প্রকৃতিকে মোহনীয় করে তুলছে। এই ফুল প্রাচুর্য, বর্ণ ও সৌন্দর্যের দিক থেকে তাই বাংলাদেশের জাতীয় ফুলের মর্যাদা পেয়েছে। তাই তো আমরা গেয়ে উঠি— প্রিয় ফুল শাপলা ফুল

প্রিয় দেশ বাংলাদেশ

 

টেলিভিশন

ভূমিকা : বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নন্দিত প্রচারমাধ্যম টেলিভিশন। বেতারযন্ত্র ও চলচ্চিত্রের পর টেলিভিশনই হচ্ছে বৈজ্ঞানিকের সর্বাধুনিক ও অত্যাশ্চর্য আবিষ্কার। ল্যাটিন শব্দ ‘টেলি’ এবং ‘ভিসিও’ থেকে টেলিভিশন শব্দটি এসেছে। ‘টেলি’ শব্দের অর্থ ‘দূরত্ব’ এবং ‘ভিসিও’ শব্দের অর্থ দেখা। অর্থাৎ যে যন্ত্রের সাহায্যে দূরের কোনো দৃশ্যকে দেখতে পাওয়া যায় তাকে টেলিভিশন বলে। তবে এ যন্ত্র দিয়ে দেখাশোনা দুটিই হয়।

আবিষ্কার ও বর্ণনা : জার্মান বিজ্ঞানী পল নেপকও সর্বপ্রথম টেলিভিশন যন্ত্রের উদ্ভাবন সম্পর্কে তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেন। তাঁর সেই অভিমতের ওপর ভিত্তি করে ১৯২৫ সালে ইংরেজি বিজ্ঞানী জন বেয়ার্ড টেলিভিশন আবিষ্কার করেন। বর্তমানে টেলিভিশনে শুধু সাদা-কালো ছবিই নয়, এর পাশাপাশি রঙিন ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। আমাদের বাংলাদেশে টেলিভিশন চালু হয়েছে ১৯৬৫ সালে। সাম্প্রতিক কালে স্যাটেলাইট টিভি ও ডিশ অ্যান্টিনা টিভি দর্শকের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ও পরিচিত নাম। এর মাধ্যমে সারা পৃথিবীর দর্শকদের মতো বাংলাদেশের দর্শকরাও বিনোদনের সব সুবিধা ভোগ করছে।

উপকারিতা : টেলিভিশন থেকে আমরা বহু উপকার পেয়ে থাকি। এটি যেমন শ্রেষ্ঠ বিনোদনমাধ্যম, তেমনি একটি শক্তিশালী প্রচারমাধ্যমও বটে। দেশের জনগণকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে এ মাধ্যম কার্যকর ভূমিকা রাখে। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান দান এবং দেশের শিল্প-সংস্কৃতির বিকাশ সাধনে টেলিভিশন অনন্য ভূমিকা রাখছে। কৃষিপ্রধান দেশের কৃষির মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এ মাধ্যম রাখছে যুগান্তকারী ভূমিকা।

অপকারিতা : টেলিভিশনকে যদি সঠিকভাবে পরিচালিত না করা হয়, তবে পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় জীবনে এর কুফল দেখা দেয়। কুরুচিপূর্ণ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান মানুষের নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় ঘটায়। টেলিভিশন শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষতির পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তিরও অপচয় ঘটিয়ে থাকে।

উপসংহার : টেলিভিশন বিশ্বব্যাপী প্রচারিত জনপ্রিয় ও একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম। এই মাধ্যমের সুফলগুলো সঠিকভাবে দেশ-বিদেশের সর্বত্র পৌঁছে দিতে পারলে সব মানুষ এ থেকে উপকৃত হবে। এ জন্য আমাদের দেশের টেলিভিশন অনুষ্ঠানের মান বাড়িয়ে একে আরো গণমুখী করতে হবে। তবেই জাতির সার্বিক উন্নয়নে এ মাধ্যম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

 

সুন্দরবন

ভূমিকা : বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর-উপকূলবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছে প্রকৃতির অপার সম্ভার সুন্দরবন। সমুদ্রের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই বিশাল বনভূমি বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়গুলোর মধ্যে অন্যতম। শুধু তাই নয়, নোনা পরিবেশে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখণ্ড বনভূমি। এখানে যেমন প্রচুর গাছপালা, কেওড়া ও সুন্দরীগাছের বন আছে, তেমনি রয়েছে নানা প্রাণী ও জীবজন্তু। ১৯৯৭ সালে এ বন ‘ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

আয়তন ও অবস্থান : সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর-উপকূলবর্তী এলাকায় অবস্থিত। ১০,০০০ বর্গকিলোমিটারজুড়ে গড়ে ওঠা এ বনের ৬০১৭ বর্গকিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশের খুলনা জেলায় এবং বাকি অংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার মধ্যে। মোট বনভূমির ৩১.১ শতাংশ জুড়ে রয়েছে নদী-নালা, খাল-বিল মিলিয়ে জনাকীর্ণ অঞ্চল।

সুন্দরবনের প্রাণী : বিচিত্র সব প্রাণীর বাস সুন্দরবনে। এর বনভূমিতে স্বনামে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও রয়েছে নানা ধরনের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির, সাপ ও অসংখ্য প্রজাতির প্রাণী। একসময় সুন্দরবনের প্রাণীদের মধ্যে চিতা বাঘ, ওল বাঘ, গণ্ডার, হাতি, বুনো শুয়োরও ছিল। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে এসব প্রাণী যেমন বিলুপ্ত হয়েছে, তেমনি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা বিশাল পাখি শকুনও আজ খুব একটা দেখা যায় না। তবে বানর, বনবিড়াল, শজারু ও উদ এ বনে যেমন দেখা যায়, তেমনি পাখির মধ্যে আরো রয়েছে বক, সারস, হাড়গিলা, কাদাখোঁচা, লেনজা ও হট্টিটি। সমুদ্র-উপকূলে দেখা যায় গাঙচিল, জল কবুতর, চিল, ইগল, মাছরাঙা, কাঠঠোকরা, পেঁচা, মধুপায়ী ও হাঁড়ি চাঁচা।

সুন্দরবনের গাছপালা : সুন্দরবনের গাছপালা বৈচিত্র্যময়। এখানে রয়েছে সুন্দরী, গরান, গেওয়া, কেওড়া, ওড়া, পশুর, ধুন্দল, বাইন প্রভৃতি। এ ছাড়া সুন্দরবনের প্রায় সবখানেই জন্মে গোলপাতা।

উপসংহার : বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়গুলোর মধ্যে সুন্দরবন অন্যতম। সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটক এখানে ঘুরতে আসে। প্রকৃতির দান এ বনের জীবজন্তু পাখ-পাখালি সবই দেশের মূল্যবান সম্পদ। তাই সুন্দরবনের উদ্ভিদ ও প্রাণী সম্পদকে বিলুপ্তি ও বিপর্যয়ের কবল থেকে রক্ষা করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা