kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা প্রথম পত্র

মো. রবিউল আউয়াল, প্রভাষক, ফিন্যান্স বিভাগ, নটর ডেম কলেজ, ঢাকা

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা প্রথম পত্র

দ্বিতীয় অধ্যায়

আর্থিক বাজারের আইনগত দিকগুলো

সৃজনশীল প্রশ্ন

শেয়ারবাজার দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের দুটি শেয়ারবাজার থাকলেও একটি বড় ও পুরনো। এখানে প্রতিদিনের লেনদেনের পরিমাণও বেশি। এ দুটি বাজারকে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করে। দেশের শেয়ারবাজার চাঙ্গা রেখে শিল্প ও বাণিজ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে এ প্রতিষ্ঠান চেষ্টা করছে।

ক) মূলধন বাজার কী?

খ) নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বলতে কী বোঝায়?

গ) উদ্দীপকে কোন স্টক এক্সচেঞ্জের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) উদ্দীপকে যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে তার ভূমিকা মূল্যায়ন করো।

 

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক) মূলধন বাজার হলো আর্থিক বাজারের সেই অংশ, যেখানে এক বছরের বেশি অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি অর্থ বা আর্থিক সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় করা হয়।

খ) নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বলতে এমন প্রতিষ্ঠানকে বোঝায় যেগুলো শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি ও গৃহায়ণের জন্য ঋণ এবং আগাম প্রদান করে; আমানতের বিপরীতে কোনো চেক বই ইস্যু করে না। 

নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সরকার বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থা কর্তৃক ইস্যুকৃত শেয়ার, বন্ড, ডিবেঞ্চার বা স্টক বা সিকিউরিটিজ বা বাজারজাতকরণের উপযোগী অন্যান্য সিকিউরিটিজের ন্যায় গ্রহণ, অধিগ্রহণ, বিনিয়োগ বা পুনর্বিনিয়োগ ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিভিন্ন লিজিং কম্পানি, বিনিয়োগ  কম্পানি, মার্চেন্ট ব্যাংক, গৃহঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হলো নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ, যা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত।

গ) উদ্দীপকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের কথা বলা হয়েছে।

শেয়ার ইস্যুকারী কম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সুসংগঠিত প্রতিষ্ঠানকে স্টক এক্সচেঞ্জ বলে। স্টক এক্সচেঞ্জ নামক প্রতিষ্ঠান সাধারণ জনগণ ও প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পানিকে তহবিল সংস্থানে সাহায্য করে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের একটি নির্দিষ্ট স্থানের ব্যবস্থা করে। বাংলাদেশে দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ রয়েছে।

যথা—

১) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ 

২) চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ।

উল্লিখিত দুটি এক্সচেঞ্জে বিভিন্ন কম্পানির সাধারণ শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড, ডিবেঞ্চার, বন্ড ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয় করে। বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুবিধার্থে স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত কম্পানির শেয়ারগুলোকে এ, বি, জি, এন এবং জেড ইত্যাদি শ্রেণিতে বিভক্ত করে।

ঘ) উদ্দীপকে স্টক এক্সচেঞ্জ বা শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান তথা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কথা বলা হয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা আর্থিক বাজারের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে তাকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলে। যেমন—বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কার্যাবলি তদারকি করে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন স্টক এক্সচেঞ্জ বা শেয়ারবাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বীমা শিল্প ব্যবসায় উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন যথার্থ ইস্যু নিশ্চিতকরণ, সিকিউরিটিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং পুঁজি ও সিকিউরিটি বাজারের উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কমিশনের প্রথম কাজ হলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সামগ্রিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করা। এ দুটি শেয়ারবাজারের যেকোনো ধরনের নিয়মবহির্ভূত লেনদেন ও জালিয়াতি বন্ধে ইঝঊঈ ভূমিকা রাখে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন শেয়ারবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা