kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জানা-অজানা

ঝিনুক

[ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ঝিনুকের কথা উল্লেখ আছে]

আব্দুর রাজ্জাক   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঝিনুক

দুই খোলসবিশিষ্ট জলজ প্রাণী ঝিনুক। এরা সমুদ্রে অথবা অল্প লবণাক্ত পানিতে বসবাস করে। এদের শরীরের খোলস উচ্চস্তরের চুনজাতীয় পদার্থ দিয়ে গঠিত। শারীরিক কাঠামো গঠিত হয় কপাট, মুখ, ওষ্ঠ অংশ, ফুলকা, আবরণ অংশ, হৃদযন্ত্র, পাকস্থলী, মলনালি, মলদ্বার ইত্যাদি অংশ নিয়ে। ঝিনুকের শক্ত খোলকের অভ্যন্তরে কোমল দেহ রয়েছে। খোলসদ্বয় একপাশে কবজার মতো যুক্ত থাকে। এদের মাথা ও চোখ নেই। প্রজাতিভেদে আকার, আকৃতি ও বর্ণে এদের পার্থক্য হয়। এটি লম্বায় ০.১-১৩৭ সেমি হয়। বড় ঝিনুক ওজনে কয়েক কেজি পর্যন্ত হতে পারে। ঝিনুক ক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ খায়। সিলিয়ার মাধ্যমে পানি শোষণ করে তা থেকে জৈব পদার্থ গ্রহণ করে। স্ত্রী ঝিনুক বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডিম পাড়ে। বাচ্চা ফুটতে সময় লাগে প্রায় ১০ ঘণ্টা। ঝিনুক ৬-২০ বছর বাঁচে। বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন মোহনায় ঝিনুকের অনেক প্রজাতি রয়েছে। কোনো কোনো প্রজাতি মুক্তা উৎপাদনে সক্ষম। আবার কোনো প্রজাতি মানুষের প্রিয় খাদ্য। স্থানীয় কেউ কেউ এগুলো খায় এবং মাছের টোপ হিসেবে ব্যবহার করে। বাংলাদেশিরা এ খাদ্যবস্তুর প্রতি এখনো আকৃষ্ট নয়। ইউরোপ, দক্ষিণ আমেরিকা ও দূরপ্রাচ্যসহ অনেক দেশেই ঝিনুক সুস্বাদু খাদ্য হিসেবে সমাদৃত। ঝিনুকে জিঙ্ক, লৌহ, ক্যালসিয়াম, সেলেনিয়ামসহ ভিটামিন এ এবং ভিটামিন বি১২-এর ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান রয়েছে। এদের খোলস থেকে চুন তৈরি হয়। মুক্তা ও চুনের জন্য ঝিনুকের যথেষ্ট সমাদর রয়েছে। ঝিনুকের খোলস নানা ধরনের সাজসজ্জার উপকরণ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।           

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা