kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী প্রস্তুতি

বাংলা

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



বাংলা

নমুনা প্রশ্ন

[দ্রষ্টব্য : ডান পাশে উল্লিখিত সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক]

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১ ও ২ ক্রমিকের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখো : (যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন পাঠ্য বই থেকে)

বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন ক্ষুদ্রজাতিসত্তার লোকজন। এদের কেউ চাকমা, কেউ মারমা, কেউ মুরং, কেউ তঞ্চঙ্গ্যা ইত্যাদি। এ ছাড়া রাজশাহী আর জামালপুরে রয়েছে সাঁওতাল ও রাজবংশীদের বসবাস। তাদের রয়েছে নিজ নিজ ভাষা। একই দেশ, একই মানুষ অথচ কত বৈচিত্র্য। এটাই বাংলাদেশের গৌরব। সবাই সবার বন্ধু, আপনজন। এ দেশে রয়েছে নানা ধর্মের লোক। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান। সবাই মিলেমিশে আছে যুগ যুগ ধরে। এ রকম খুব কম দেশেই আছে। বাংলাদেশের এই যে মানুষ, তাদের পেশাও কত বিচিত্র। কেউ জেলে, কেউ কুমার, কেউ কৃষক, কেউ আবার কাজ করে অফিস-আদালতে। সবাই আমরা পরস্পরের বন্ধু। একজন তার কাজ দিয়ে আরেকজনকে সাহায্য করছে। গড়ে তুলেছে এই দেশ। ভাবো তো কৃষকের কথা। তারা কাজ না করলে আমাদের খাদ্য জোগাত কে? সবাইকে তাই আমাদের শ্রদ্ধা করতে হবে, ভালোবাসতে হবে। সবাই আমাদের আপনজন। আমাদের আছে নানা ধরনের উৎসব। মুসলমানদের রয়েছে দুটি ঈদ—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। হিন্দুদের দুর্গাপূজাসহ আছে নানা উৎসব আর পার্বণ। বৌদ্ধদের আছে বৌদ্ধ পূর্ণিমা। খ্রিস্টানদের আছে ইস্টার সানডে আর বড়দিন। এ ছাড়া রয়েছে নানা উৎসব। পহেলা বৈশাখ নববর্ষের উৎসব। রয়েছে রাখাইনদের সাংরাই ও চাকমাদের বিজু উৎসব। ধর্ম যার যার, উৎসব যেন সবার।

১। নিচের যেকোনো পাঁচটি শব্দের অর্থ লেখো। ১–৫=৫

প্রকৃতি, বৈচিত্র্য, ক্ষুদ্র, গৌরব, আপনজন, সাহায্য, পরস্পর

২। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখো :

(ক) রাজশাহী আর জামালপুরে বসবাসকারী ক্ষুদ্রজাতিসত্তার নাম লেখো।      ২

(খ) বাংলাদেশের মানুষের পেশা কেমন? তিনজন পেশাজীবীর কাজ সম্পর্কে তিনটি বাক্য লেখো।   ১+৩=৪

(গ) নববর্ষের উৎসব কোন দিন পালন করা হয়? তুমি কিভাবে নববর্ষের উৎসব পালন করো? তিনটি বাক্যে লেখো।      ১+৩=৪

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৩ ও ৪ নম্বর ক্রমিকের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখো : (যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্ন পাঠ্য বই বহির্ভূত)

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ। গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া। সেই গ্রামের শেখ পরিবারে জন্ম হলো একটি শিশুর। বাবা শেখ লুৎফর রহমান আদর করে শিশুটির নাম রাখলেন খোকা। দিনে দিনে বড় হয় খোকা। পায়ে হেঁটে স্কুলে যায়। দুচোখ মেলে দেখে বাংলার মাঠ-ঘাট, পথ-প্রান্তর, সোনালি ধানের ক্ষেত। চোখ জুড়িয়ে যায় তার। যত বড় হয় খোকা, তত তার বন্ধুর সংখ্যা বাড়ে। গাঁয়ের অনেক ছেলের সঙ্গে তার যোগাযোগ নিবিড় হয়। প্রায়ই সে বন্ধুদের বাড়ি নিয়ে আসে। বলে, মা, ওদের খেতে দাও। মা হাসিমুখে ছেলের আবদার পূরণ করেন। বর্ষাকালে স্কুলে যেতে বাবা ছেলেকে ছাতা কিনে দিলেন। খোকা ছাতা নিয়ে স্কুলে যায়। একদিন ছাতা ছাড়া ভিজে ভিজে বাড়ি ফিরল খোকা। মা জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোর ছাতা কই বাবা? এমন ভিজেছিস কেন?’ খোকা হাসিমুখে বলল, ‘মাগো, আমার এক গরিব বন্ধুর ছাতা নেই। আমার ছাতাটা ওকে দিয়েছি।’ মা ছেলের এমন উদারতায় খুশি হয়ে ওকে জড়িয়ে ধরেন। বললেন, ‘ভালোই করেছিস বাবা। তোর বাবাকে বলব তোকে আর একটা ছাতা কিনে দিতে।’ খোকার বন্ধু জেলের ছেলে গোপাল করুণ সুরে বাঁশি বাজায়। খোকা বন্ধুকে বলে, ‘তোর বাঁশির সুরে আনন্দ নেই কেন রে গোপাল?’ গোপাল হতাশ হয়ে বলে, ‘আমার চারদিকে মানুষের জীবনে আনন্দ নেই রে খোকা।’ খোকা নিশ্চুপ থেকে ভাবে, তাই তো। আমার চারদিকে এই অবস্থাই তো দেখছি। এই অবস্থা বদলাতে হবে। দেশের কথা ভাবতে ভাবতে বড় হয় খোকা। স্কুল পার হয়ে কলেজে ঢোকে। বাংলার মানুষের কথা, দেশের কথা তাঁকে নিয়ত ভাবায়। তিনি পার হন কলেজের চৌকাঠ। আরো বড় হন তিনি। যুক্ত হন রাজনীতির সঙ্গে। গরিব মানুষের দুঃখ দূর করার জন্য আন্দোলন করেন। দেশের মুক্তির জন্য ১৯৭১ সালে ডাক দেন স্বাধীনতার। এই খোকাই আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

দেশকে মায়ের মতো ভালোবাসব। কথায়, চিন্তায় ও কাজে দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাব। দেশসেবার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার লোভের বশবর্তী হবো না

৩। নিচে কয়েকটি শব্দ ও শব্দার্থ দেওয়া হলো। উপযুক্ত শব্দটি বেছে নিয়ে নিচের বাক্যগুলোর শূন্যস্থান পূরণ করো :      ১–৫=৫

শব্দ   —  অর্থ 

পথ-প্রান্তর — পথের পাশ, রাস্তার শেষ সীমা  

আবদার — বায়না

উদারতা — সরলতা   

আন্দোলন — সংগ্রাম

হতাশ — আশাহীন, নিরাশ  

করুণ — কাতর, বেদনাপূর্ণ; নিয়ত — সব সময়   

(ক) সামান্য কারণেই ... হওয়া ঠিক নয়।

(খ) বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ... দৃশ্য দেখে তার চোখে জল এসেছে।      

(গ) ছেলেটি মায়ের কাছে একটি বল কিনে দেওয়ার জন্য ... করে।    

(ঘ) তিনি প্রতি ... দেশের মানুষের কল্যাণের কথা ভাবেন।

(ঙ) তার ... আমাকে মুগ্ধ করেছে।

৪। নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখো :        

(ক) খোকার প্রকৃত নাম কী? বন্ধুর প্রতি তাঁর উদারতার ঘটনাটি চারটি বাক্যে লেখো।           ১+৪=৫

(খ) খোকা কিভাবে বুঝতে পারলেন যে চারদিকের মানুষের জীবনে আনন্দ নেই? দেশের ভাবনা তাঁকে কত দূর নিয়ে গিয়েছিল? চারটি বাক্যে লেখো।     ৫

(গ) দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তোমার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে পাঁচটি বাক্যে লেখো।     ৫

উত্তরমালা

১। ক) প্রকৃতি — নিসর্গ

খ) বৈচিত্র্য — বিভিন্নতা

গ) ক্ষুদ্র   — ছোট

ঘ) গৌরব — অহংকার, গর্ব

ঙ) আপনজন — আত্মীয়

চ) সাহায্য — সহযোগিতা

ছ) পরস্পর — একের সঙ্গে অন্যের

২। (ক) রাজশাহী আর জামালপুরে বসবাসকারী ক্ষুদ্রজাতিসত্তার নাম হলো — সাঁওতাল ও রাজবংশী।

(খ) বাংলাদেশের মানুষের পেশা বিচিত্র।

 তিনজন পেশাজীবীর কাজ সম্পর্কে তিনটি বাক্য হলো —

i. কৃষক — কৃষিকাজ করে আমাদের খাদ্যের জোগান দেয়।

ii. জেলে — নদী-সাগর, বিল-ঝিলে মাছ ধরে আমাদের মাছের চাহিদা পূরণ করে।

iii. কুমার — এ দেশের কুমার সম্প্রদায় যুগ যুগ ধরে তৈরি করে আসছে মাটির জিনিস।

 (গ) নববর্ষের উৎসব পহেলা বৈশাখে পালন করা হয়।

 আমি যেভাবে নববর্ষের উৎসব পালন করি, তা তিনটি বাক্যে লেখা হলো :

i. নববর্ষের দিন খুব ভোরে উঠে আমি মা-বাবার সঙ্গে রমনার বটমূলে যাই।

ii. সেদিন আমরা শুভেচ্ছা বিনিময় করার সময় একে অপরকে বলি শুভ নববর্ষ।

iii. এ ছাড়া নববর্ষের দিন আমরা দেশীয় খাবার, বিশেষ করে পান্তাভাত ও ইলিশ মাছ খেয়ে থাকি।

৩। (ক) হতাশ (খ) করুণ (গ) আবদার (ঘ) নিয়ত (ঙ) উদারতা

৪। (ক) খোকার প্রকৃত নাম হলো শেখ মুজিবুর রহমান।

বন্ধুর প্রতি তাঁর উদারতা সম্পর্কে চারটি বাক্যে হলো—

i. খোকা যত বড় হন, তত তাঁর বন্ধুর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

ii. খোকা প্রায়ই বন্ধুদের বাড়িতে নিয়ে এসে তাঁর মাকে বলেন, মা ওদের খেতে দাও।

iii. ছাতা থাকা সত্ত্বেও খোকা একদিন বর্ষাকালে বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফেরেন।

iv. খোকার মা বৃষ্টিতে ভেজার কারণ জানতে চাইলে বলেন, তাঁর এক গরিব বন্ধুকে তিনি ছাতাটা দিয়ে দিয়েছেন।        

(খ) গোপালের বাঁশির সুরে ও তার কথায় খোকা বুঝতে পারলেন যে, চারদিকের মানুষের জীবনে আনন্দ নেই।

i. দেশের ভাবনা খোকাকে অনেক দূর নিয়ে গিয়েছিল।

ii. বড় হয়ে খোকা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।   

iii. গরিব মানুষের দুঃখ দূর করার জন্য আন্দোলন করেন।

iv. দেশের মুক্তির জন্য ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ডাক দেন।   

(গ) দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য হলো—

i. দেশকে মায়ের মতো ভালোবাসব।

ii. কথায়, চিন্তায় ও কাজে দেশের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাব।

iii. দেশসেবার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার লোভের বশবর্তী হবো না।

[বাকি অংশ আগামী সংখ্যায় ছাপা হবে]

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা