kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জানা-অজানা

পান

[ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে ‘পান’-এর কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পান

পান পিপারাসি পরিবারের পিপার গণের এক প্রকার লতাজাতীয় গাছের পাতা, যা গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলে বেশি জন্মে। এর বৈজ্ঞানিক নাম Piper betle। প্রধানত উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষ বেশি পান খায়। আর্য ও আরবদের কাছে এটি তাম্বুল নামে পরিচিত। এ ছাড়া হিন্দি ভাষায় একে পায়ান, সংস্কৃত ভাষায় তাম্বুল ও নাগাভাল্লি এবং ফারসি ভাষায় তানবুল নামে ডাকা হয়। নিঃশ্বাসকে সুরভিত করা এবং ঠোঁট ও জিবকে লাল করার জন্য মানুষ পান খায়।

আগে বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই পানচাষ করা হতো। বর্তমানে দিনাজপুর, রংপুর ও চট্টগ্রামে পানের চাষ বেশি হয়। পানের বাগানকে বলা হয় বরজ এবং একটি বরজের আয়তন সাধারণত ১২ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে সীমিত থাকে। পানে কিছুটা মাদকতার আনন্দও বিদ্যমান। বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে সামাজিকরীতি, ভদ্রতা ও আচার-আচরণের অংশ হিসেবেই পানের ব্যবহার চলে আসছে। অনুষ্ঠানাদিতে পান পরিবেশন দ্বারা প্রস্থানের সময় ইঙ্গিত করা হয়। একসময় উৎসব, পূজা ও পুণ্যাহে পান ছিল অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমানে বিয়েতে পান-চিনির অনুষ্ঠান করা হয়। এ অনুষ্ঠানে উভয়পক্ষের মুরব্বিরা বসে শুভ দিনক্ষণ দেখে বিয়ের তারিখ ঠিক করেন। প্রাচীন অভিজাত জনগোষ্ঠীর মাঝে পান তৈরি এবং তা সুন্দরভাবে পানদানিতে সাজানো লোকজশিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পেত। পানের সঙ্গে সব সময়ই চুন ও সুপারি দেওয়া হয়। অনেকে জর্দা দিয়েও পান খান। চিকিৎসকদের মতে, চুন, জর্দাসহ পান খেলে এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে জর্দা ছাড়া পান খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ভারতবর্ষের প্রাচীন ভেষজ গ্রন্থ আয়ুর্বেদে নিঃশ্বাস দুর্গন্ধমুক্ত রাখার জন্য পান খাওয়ার কথা উল্লেখ আছে। এ শাস্ত্র অনুযায়ী পান খেলে ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগকেও প্রতিহত করা যায়। এ ছাড়া পান কণ্ঠ ও পেট পরিষ্কার রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখে, মুখে স্বাদ আনে, সর্দি-কাশি হলে পানের রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। পানের সঙ্গে গোলমরিচ ও লবঙ্গ মিশিয়ে খেলেও কাশি কমে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা