kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জানা-অজানা

অণুচক্রিকা

[সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে ‘অণুচক্রিকা’র কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অণুচক্রিকা

অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট (Platelet) হলো নিউক্লিয়াসবিহীন, গোলাকার বা ডিম্বাকার বা রড আকৃতির বর্ণহীন সাইটোপ্লাজমীয় চাকতিবিশিষ্ট অতি ক্ষুদ্র ও অনিয়মিত আকারের কোষ। লোহিত ও শ্বেত রক্তকণিকার চেয়েও আকারে ছোট। এটি আমাদের রক্তের অত্যাবশ্যক উপাদান। রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তক্ষয় ঠেকাতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এর ব্যাস দুই থেকে তিন মাইক্রোমিটার এবং আয়ুষ্কাল ৫ থেকে ৯ দিন।

অণুচক্রিকার ঘনত্ব হিমোসাইটোমিটারের সাহায্যে মাপা হয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতি ঘনমিলিমিটারে দেড় থেকে সাড়ে চার লাখ অণুচক্রিকা থাকে। এর সংখ্যা কমে গেলে শরীরে রক্তক্ষরণ হয়। শরীর থেকে রক্ত বেরিয়ে যেতে শুরু করে। অ্যানিমিয়া, ডেঙ্গু ও অন্য কয়েকটি ভাইরাল ইনফেকশন, লিউকেমিয়ার কারণে রক্তে অণুচক্রিকার পরিমাণ কমে যায়। কেমোথেরাপি, অতিরিক্ত মদ্যপান, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি, লিভারের অসুখ এবং ক্যান্সারের কারণেও অণুচক্রিকা কমে যায়। এ ছাড়া অটো ইমিউন অসুখ, রক্তে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বা কোনো ওষুধের প্রতিক্রিয়াও এর মাত্রা কমাতে পারে।

অণুচক্রিকার মাত্রা বেড়ে গেলেও তা রক্তনালিকাগুলোকে বাধা দিয়ে থ্রম্বোসিস ঘটাতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্ট্রোক, মাইওকার্ডিয়াল ইনফেকশন ও রক্তনালিকা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। অণুচক্রিকার অস্বাভাবিকতাকে থ্রম্বোসাইটোপ্যাথি বলে। অণুচক্রিকার সংখ্যা কমে গেলে থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া, কাজে বাধাগ্রস্ত হলে থ্রম্বোস্টেনিয়া এবং এর সংখ্যা বেড়ে গেলে থ্রম্বোসাইটোসিস হয়েছে বলে ডাক্তারি ভাষায় বলা হয়।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা