kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জানা-অজানা

মস্তিষ্ক

- আব্দুর রাজ্জাক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মস্তিষ্ক

[ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের ষষ্ঠ অধ্যায়ে মস্তিষ্কের কথা উল্লেখ আছে]

স্নায়ুতন্ত্রের সবচেয়ে বড়, জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মস্তিষ্ক। মানুষের মস্তিষ্ক করোটির মধ্যে সুরক্ষিত, মেনিনজেস নামক পর্দা দ্বারা আবৃত এবং গুরুমস্তিষ্ক, মধ্যমস্তিষ্ক ও লঘুমস্তিষ্ক, মেডুলা নিয়ে গঠিত। মস্তিষ্কের প্রধান অংশের নাম গুরুমস্তিষ্ক। এটি ডান ও বাম খণ্ডে বিভক্ত। এদের ডান ও বাম সেরিব্রাল হেমস্ফািয়ার বলে। মানব মস্তিষ্কে সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার অধিকতর উন্নত ও সুগঠিত। এই দুই খণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে স্নায়ুতন্তু দ্বারা সংযুক্ত। এর উপরি ভাগ ঢেউ তোলা ও ধূসর বর্ণের। দেখতে ধূসর বর্ণের হওয়ায় একে ধূসর পদার্থ বা গ্রে ম্যাটার বলে। গুরুমস্তিষ্কের অন্তঃস্তরে শুধু স্নায়ুতন্তু থাকে। স্নায়ুতন্তুর রং সাদা। তাই মস্তিষ্কের ভেতরের স্তরের নাম শ্বেত পদার্থ বা হোয়াইট ম্যাটার। শ্বেত পদার্থের ভেতর দিয়ে স্নায়ুতন্তু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়। ধূসর পদার্থের কয়েকটি স্তরে বিশেষ আকারে স্নায়ুকোষ দেখা যায়। এই স্নায়ুকোষগুলো গুরুমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে গুচ্ছ বেঁধে স্নায়ুকেন্দ্র সৃষ্টি করে। এগুলো বিশেষ বিশেষ কর্মকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তাচেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান-বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে অবস্থিত। মধ্যমস্তিষ্ক দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে। লঘুমস্তিষ্ক দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। এ ছাড়া কথা বলা ও পেশি চালনা নিয়ন্ত্রণ করে। মেডুলা অংশ হৃত্স্পন্দন, খাদ্য গ্রহণ, শ্বসন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন ১৫০০ ঘন সেন্টিমিটার, গড় ওজন ১.৩৬ কেজি। মানবমস্তিষ্কের মূল গঠন-উপাদান হলো নিউরন। মস্তিষ্কে প্রায় ১০ বিলিয়ন স্নায়ুকোষ বা নিউরন থাকে। এই কোষগুলো বৈদ্যুতিক সংকেতের আকারে অনুভূতি পরিবহন করতে পারে।   

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা