kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জানা-অজানা

পপকর্ন

[সপ্তম শ্রেণির কৃষিশিক্ষা বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে ‘পপকর্ন’-এর কথা উল্লেখ আছে]

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পপকর্ন

ভুট্টা দিয়ে তৈরি সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারগুলোর একটি হলো পপকর্ন। এটি বিশ্বের অন্যতম একটি পুরনো খাবার, যা সর্বপ্রথম মেক্সিকোতে তৈরি হয়। প্রত্নতত্ত্ববিদরা মেক্সিকো সিটিতে আশি হাজার বছরের পুরনো পপকর্নের সন্ধান পান। আদি আমেরিকানদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল পপকর্ন। ইউরোপিয়ানরা আদি আমেরিকানদের কাছ থেকে পপকর্ন সম্পর্কে ধারণা পায়। কর্টিস যখন মেক্সিকো দখল করেন এবং কলম্বাস যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজে পৌঁছান, তখন তাঁরা উভয়েই স্থানীয় লোকজনকে দেখেছিলেন পপকর্ন খেতে। পপকর্ন খাওয়ার পাশাপাশি মেয়েরা এটি নাকফুল হিসেবে ব্যবহার করত। এ ছাড়া মাথার মুকুট তৈরিতেও ব্যবহৃত হতো পপকর্ন।

সিনেমা দেখার সময় পপকর্ন খাওয়ার প্রচলন হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। পপকর্ন শুধু সুস্বাদু খাবারই নয়, দারুণ উপকারীও। এতে সুগার, ফ্যাট এবং ক্যালরি কম থাকে। ছোট এক কাপ পপকর্নে মাত্র ৩০ ক্যালরি থাকে। অল্প খেলেই পেট ভরে যায় এবং অনেকক্ষণ ক্ষুধা লাগে না। ফলে দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পপকর্ন হলো আদর্শ খাবার।

এতে পলিফেনলস নামক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা প্রদাহ, অন্ধত্ব্ব, মাংসপেশির দুর্বলতা, আলঝেইমারস, চুল পড়া ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি কমায়। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। এই ফাইবার শরীরের পাচক রস নির্গত করে দেহের হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে, স্বাস্থ্য ভালো রাখে; এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য আদর্শ খাবার পপকর্ন। নিয়মিত পপকর্ন খেলে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে ফ্লেভার্ড পপকর্ন, অতিরিক্ত লবণ, চিনিযুক্ত কিংবা বাটার দেওয়া পপকর্ন শরীরের জন্য মোটেও উপকারী নয়। এগুলোতে থাকে অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও বাড়তি ক্যালরি।

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল          

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা