kalerkantho

জানা-অজানা

গ্লুকোজ

[ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের চতুর্দশ অধ্যায়ে গ্লুকোজের কথা উল্লেখ আছে]

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গ্লুকোজ

গ্লুকোজ হলো একটি উল্লেখযোগ্য মনোস্যাকারাইড, যা কার্বোহাইড্রেটের রাসায়নিক শ্রেণিবিভাগের অন্তর্ভুক্ত। এটি একটি অ্যালডোহেক্সোজ ও রিডিউসিং সুগার। ব্যাকটেরিয়া থেকে মানুষ ও প্রায় সব জীব শক্তির একটি উৎস হিসেবে গ্লুকোজ ব্যবহৃত হয়। গ্রিক glukus থেকে গ্লুকোজ শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ ‘মিষ্টি’। গ্লুকোজ ডি-গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ নামেও পরিচিত। গবেষণাগারে অ্যালকোহলের উপস্থিতিতে চিনিকে হাইড্রোজেন ক্লোরাইড (HCl) বা সালফিউরিক এসিড (H2SO4) দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষিত করে গ্লুকোজ তৈরি করা হয়। কারখানায় প্রস্তুত গ্লুকোজ তৈরি করা হয় শ্বেতসার (চাল, আলু, ভুট্টা প্রভৃতি শ্বেতসারজাতীয় দ্রব্য) ও উচ্চ খাদ্যপ্রাণসম্পন্ন ফল থেকে। গ্লুকোজ স্বাদে মিষ্টি এবং পানিতে সহজেই দ্রবণীয়। এটি অ্যালকোহলে সামান্য দ্রবণীয়; কিন্তু ইথারে অদ্রবণীয়। এর আণবিক সংকেত C6H12O6। বিভিন্ন প্রকার মিষ্টি ফল ও মধুতে প্রচুর গ্লুকোজ রয়েছে। পাকা আঙুরে গ্লুকোজের পরিমাণ ১২-৩০ শতাংশ। এ জন্য একে আঙুরের শর্করা বা গ্রেইপ সুগার বলে। গ্লুকোজ মানুষের শরীরে শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। দেহের প্রায় প্রতিটি কোষ গ্লুকোজ ব্যবহার করে ক্যালরি উৎপন্ন করে। গ্লুকোজ রোগীর খাবার, ফলমূল সংরক্ষণ ও ভিটামিন ‘সি’ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। খাদ্য থেকে আহরিত প্রায় সব গ্লুকোজ শরীরের বিভিন্ন কোষে ব্যবহৃত হয়, বাকিটা ইনসুলিন ভেঙে ফেলে এবং মাত্র ২০ শতাংশ যকৃতে গিয়ে চর্বি হিসেবে জমা হয়। কোনো মানুষ যদি ১২০ ক্যালরি গ্লুকোজ খায়, দিনের শেষে তার এক ক্যালরি চর্বিরূপে জমা হয়। এ ছাড়া শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট শরীরে শক্তির মূল জোগানদাতা। গ্লুকোজ কার্বোহাইড্রেট বিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আব্দুর রাজ্জাক

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা