kalerkantho

জেএসসি প্রস্তুতি

বাংলা

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



বাংলা

সৃজনশীল প্রশ্ন

একুশের গান

আবদুল গাফ্্ফার চৌধুরী

সৃজনশীল প্রশ্ন

উদ্দীপক-১ : ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়।

ওরা কথায় কথায় শিকল পরায় আমার হাতে পায়।

উদ্দীপক-২ : ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ, দুপুর বেলার অক্ত

 বৃষ্টি নামে বৃষ্টি কোথায়, বরকতেরই রক্ত

ক) ‘ডানপিটে শওকত’ আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর কী ধরনের গ্রন্থ?

উত্তর : ‘ডানপিটে শওকত’ আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর শিশুতোষ গ্রন্থ।

খ) ‘রক্তে রাঙানো’ কথাটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : ‘রক্তে রাঙানো’ কথাটি বহু মানুষের আত্মোৎসর্গে সিক্ত বা উজ্জ্বল অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর ‘একুশের গান’ কবিতায় বলা হয়েছে যে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে রাজপথে আন্দোলনকারী ছাত্রদের মিছিলে পাকিস্তানি পুলিশেরা গুলি ছুড়েছিল। সেদিন রাজপথে অনেক তরুণ তাজা প্রাণ ঝরে পড়েছিল। তাঁদের আত্মোৎসর্গে সিক্ত সেই একুশে ফেব্রুয়ারি।

গ) উদ্দীপক ১ ও ২-এ ‘ফেব্রুয়ারির গান’ কবিতার কোন চিত্র ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : উদ্দীপক ১ ও ২-এ ‘ফেব্রুয়ারির গান’ কবিতার ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে পাকিস্তানিদের অত্যাচারের চিত্র ফুটে উঠেছে।

‘একুশের গান’ কবিতায় বলা হয়েছে যে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতির জীবনে একটি স্মরণীয় দিন। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ছাত্রসমাজ এই দিনে আন্দোলন শুরু করে। ছাত্রদের মিছিলে সেদিন পাকিস্তান সরকারের পুলিশ গুলি চালায়। সেই গুলিতে রাজপথে অনেক ছাত্র-জনতা শহীদ হন। একুশে ফেব্রুয়ারিতে আত্মদানকারী সেই শহীদ ভাইদের কথা আমরা কিছুতেই ভুলতে পারি না। শত শত মায়ের চোখের পানিতে গড়া এই একুশ। আমাদের সোনার দেশের মানুষের রক্তে একুশে ফেব্রুয়ারি গড়ে উঠেছে। তাই তাঁদের অবদানের কথা আমরা কিছুতেই ভুলতে পারি না।

উদ্দীপকে ১ ও ২-এ ভাষা আন্দোলনের সেই কথাই বিবৃত হয়েছে। পাকিস্তানিরা আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল বলেই যাঁরা রাজপথে প্রতিবাদে নেমেছিলেন, তাঁদেরই রক্তে সেদিন রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল। উদ্দীপকের এই দিকটি ‘একুশের গান’ কবিতার উপর্যুক্ত বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ) সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটিতে কী ‘একুশের গান’ কবিতার মূল উদ্দেশ্য ফুটে উঠেছে? তোমার মন্তব্যের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর : ‘একুশের গান’ কবিতার মূল উদ্দেশ্য বাঙালির আত্মত্যাগ নিয়ে গর্ব করার পাশাপাশি শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করার জন্য সব ধরনের অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত।

‘একুশের গান’ কবিতায় ১৯৫২ সালে সংঘটিত ভাষা আন্দোলনে বাঙালি ছাত্র-জনতার আত্মোৎসর্গের স্মৃতিচারণা করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের রক্তদান কিছুতেই বিস্মৃত হওয়া যায় না। এই কবিতায় অন্যায়ভাবে গুলিবর্ষণকারী তৎকালীন পাকিস্তানি শোষকের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির জাগ্রত প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। শহীদ ভাইদের রক্তের ঋণ শোধ করার জন্য দেশের হাটে-মাঠে, বাঁকে মানুষের সুপ্ত শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে হবে। দেশের মানুষের প্রাণের দাবি বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে পাকিস্তানিরা অস্বীকার করেছে। তাদের সব অপচেষ্টা বাঙালিরা ব্যর্থ করে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আর কোনো শক্তি যেন কোনো অপচেষ্টা করতে না পারে, সে জন্য সর্বপ্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। এ জন্য ১৯৫২ সালের একুশের ক্রোধকে অন্তরে সব সময় জাগিয়ে রাখতে হবে।

উদ্দীপকে শুধু ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর পাকিস্তানি শাসকদের অত্যাচারের চিত্র বর্ণিত হয়েছে, ‘একুশের গান’ কবিতায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে প্রবল প্রতিবাদ ধ্বনিত হয়েছে, তার কিছুমাত্র আভাস ফুটে ওঠেনি।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপক দুটি ‘একুশের গান’ কবিতার মূল উদ্দেশ্যকে ধারণ করেনি।

রুপাই

জসীমউদ্্দীন

উদ্দীপক : মন্তু শেখ একজন ডাকপিয়ন। ডাক বিলি করার পর সে সংসারের নানা কাজে ব্যস্ত থাকে। পোস্ট অফিসের বড় বাবুর গরুকে ঘাস কেটে দেয়। বাড়ির জন্য পুকুর-ডোবা থেকে মাছ ধরে আনে। পরিশ্রমী বলে গাঁয়ের সবাই ওকে পছন্দ করে।

ক) ‘সুন্দি’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : ‘সুন্দি’ শব্দের অর্থ শ্বেতপদ্ম।

খ) রুপাইয়ের গাখানি কেমন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : রুপাইয়ের গাখানি শাওন মাসের তমাল তরুর মতো।

জসীমউদ্্দীনের ‘রুপাই’ কবিতায় বলা হয়েছে—চাষির ছেলে রুপাই। সে দেখতে কালো হলেও তার গায়ের রং গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে যেন ধারণ করে আছে। রোদে পুড়ে, কঠিন পরিশ্রমে তার শরীরের রং কালো হয়েছে। তার সেই কালো দেহখানি শ্রাবণ মাসের বৃষ্টি ধোয়া তমাল বৃক্ষের মতো দীর্ঘ, মসৃণ ও আকর্ষণীয়। বৃষ্টি ধোয়া কালো মেঘ যেমন তেল চকচকে হয়, তেমনি রুপাইয়ের কালো মসৃণ দেহখানি যেন বিজলির মতো দ্যুতি ছড়ায়।

গ) উদ্দীপকের মন্তু শেখ ‘রুপাই’ কবিতার রুপাইয়ের সঙ্গে কিভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : উদ্দীপকের মন্তু শেখ ‘রুপাই’ কবিতার রুপাইয়ের কর্মদক্ষতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

‘রুপাই’ কবিতার রুপাই গ্রামবাংলার এক দক্ষ কর্মঠ চাষি। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে সে কঠিন মাটিতে ফসল ফলায় বলে পরিশ্রমে তার গাঁয়ের রং কালো হয়েছে। শরীরের রং কালো হলেও রুপাই তার কর্মদক্ষতা ও গুণ দিয়ে গ্রামের সবার হৃদয় জয় করেছে। আখড়ায় তার বাঁশের লাঠিখানি সবার কাছে অনেক সম্মানের। খেলাধুলায় পারদর্শী বলে খেলার দলে তাকে নিয়ে টানাটানি পড়ে যায়। জারিগানেও তার গলা সবার আগে ওঠে অর্থাৎ সেখানেও তার জুড়ি নেই। শাল-সুন্দি বেত যেমন বিবিধ কাজে লাগে, তেমনি রুপাই তার কর্মদক্ষতার জন্য সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। গাঁয়ের বুড়ো অর্থাৎ অভিজ্ঞ মানুষজন তার সম্পর্কে মন্তব্য করে—রুপাইয়ের মতো সুযোগ্য সন্তান কমই দেখা যায়। একদিন রুপাইয়ের নামে সব গ্রাম নামিদামি হয়ে যাবে।

উদ্দীপকের মন্তু শেখ ডাক বিলি করার পাশাপাশি নানা কাজ করে বলে গ্রামের সবাই তাকে পছন্দ করে। উদ্দীপকের এই দিকটি ‘রুপাই’ কবিতার উপর্যুক্ত বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ) সাদৃশ্যগত দিকটিতে কী ‘রুপাই’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব ফুটে উঠেছে? তোমার মন্তব্যের পক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর : ‘রুপাই’ কবিতায় প্রকৃতির পটভূমিতে গ্রামীণ সৌন্দর্যের পাশাপাশি কৃষকের শৈল্পিক রূপও ফুটে উঠেছে, যা পড়ে মানুষ গ্রামীণ প্রকৃতিকে ভালোবাসতে পারবে—এই দিকটি উদ্দীপকে নেই।

‘রুপাই’ কবিতায় গ্রামবাংলার কৃষকের রূপ ও কর্মোদ্যোগ কবি অসাধারণ ভাষায় প্রকাশ করেছেন। গ্রামবাংলার প্রকৃতির মধ্যে কালো ভ্রমর, রঙিন ফুল, কাঁচা ধানের পাতা, নবীন তৃণ এবং কচি মুখের মায়াবী কৃষকের প্রায়ই দেখতে পাওয়া যায়। সেই কৃষকের বাহু দুইখানি জালি লাউয়ের ডগার মতো সরু মনে হয়। ‘রুপাই’ নামের এক কৃষকের দেহখানিকে কবি শ্রাবণ মাসের বৃষ্টিস্নাত তমাল তরুর সঙ্গে তুলনা করেছেন, যার কালো দেহের ঔজ্জ্বল্যের কাছে আকাশের বিদ্যুৎও হার মানে। কচি ধানের প্রাচুর্য দেখে কৃষকের অন্তরের হাসির খানিকটা রুপাই যেন তার মুখে ধরে রেখেছে। ‘রুপাই’ নামের কৃষকের রূপ বর্ণনার মধ্য দিয়ে কবি মূলত বলতে চেয়েছেন—কৃষকের শ্রমেই সভ্যতার ইতিহাস সৃষ্টি হয়। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পৃথিবীর সব কালোত্বকে কৃষক তার কর্মদক্ষতা দিয়ে জয় করেছে। তাই এ কৃষককুলের প্রতিনিধি রুপাই সবার কাছে দামি বলে গণ্য হয়েছে। উদ্দীপকে শুধু মন্তু শেখের নানামুখী কর্মের কথা বলা হয়েছে, যা রুপাইয়ের কর্মদক্ষতার একটি দিককে নির্দেশ করে। তাই বলা যায়, সাদৃশ্যগত দিকটিতে ‘রুপাই’ কবিতার উপর্যুক্ত বক্তব্য প্রতিফলিত হয়নি বলে তা কবিতাটির সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করেনি।

মন্তব্য