kalerkantho

জানা-অজানা

কাবা শরিফ

[ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে কাবা শরিফের কথা উল্লেখ আছে]

আব্দুর রাজ্জাক   

৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কাবা শরিফ

মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র স্থান কাবা শরিফ বা কাবাঘর। এটি মুসলমানদের কিবলা, অর্থাৎ যেদিকে মুখ করে মুসলমানরা সালাত আদায় করে। হজ বা উমরা পালনের সময় মুসলমানরা কাবাকে ঘিরে তাওয়াফ করে। হজের সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কাবাঘর তাওয়াফ করতে আসে লাখ লাখ মুসলমান। তারা ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলে পুরো কাবা চত্বর। পবিত্র এই কাবাঘর সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে মসজিদ আল হারামের মাঝখানে অবস্থিত। মুসলিমদের বিশ্বাস মতে, হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) এটি নির্মাণ করেন। মক্কার কুরাইশরা কাবাঘর রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্বে ছিল। তারা ৬০৮ খিস্টাব্দে কাবাঘর পুনর্নির্মাণ করেন। এরপর বর্তমান সময় পর্যন্ত বেশ কয়েকবার কাবাঘর সংস্কার করা হয়েছে। কাবাঘর গ্রানাইট পাথর দিয়ে তৈরি। উচ্চতা ১৩.১০ মিটার (মতান্তরে ১২.০৩ মিটার)। ভেতরের মেঝে মার্বেল ও চুনাপাথরে মোজাইককৃত। দরজাটি স্বর্ণ দিয়ে তৈরি। ভেতরে ছাদবাহী তিনটি কাঠের স্তম্ভ ও বিম রয়েছে। দুই বিমের মাঝে একটি সিন্দুকে সুগন্ধি রাখা আছে। দেয়ালের ওপরের অংশে রয়েছে সাঁটানো সবুজ রেশমি কাপড়। তাতে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত স্বর্ণখচিত করে অঙ্কিত। প্রাক ইসলামী যুগ থেকে এখন পর্যন্ত কাবা শরিফের চাবি বনি শায়বাহ নামক একটি গোত্রের কাছে রয়েছে। বছরে দুইবার কাবাঘর পরিষ্কার করা হয়। পরিষ্কার করতে ব্যবহৃত হয় জমজমের পানি, খাঁটি গোলাপ জল এবং উন্নত মানের সুগন্ধি উদ। কাবার গিলাফ তৈরি করা হয় ৬৭০ কেজি রেশম দিয়ে। গিলাফের ওপর দিকে সোনার প্রলেপকৃত রুপার চিকন তার দিয়ে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ক্যালিগ্রাফিখচিত করা। মোট পাঁচ টুকরা গিলাফ বানানো হয়। চার টুকরা চারদিকে এবং পঞ্চম টুকরাটি কাবার দরজায় লাগানো হয়। টুকরাগুলো মজবুতভাবে সেলাইযুক্ত। কাবাঘরে প্রথম গিলাফ পরান হিমিয়ারের রাজা তুব্বা আবু কারব আসাদ।     

মন্তব্য