kalerkantho

ষষ্ঠ শ্রেণি

বাংলা প্রথম পত্র

লুৎফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলা প্রথম পত্র

সৃজনশীল প্রশ্ন

পদ্য

মুজিব : রোকনুজ্জামান খান

উদ্দীপক

বঙ্গবন্ধুর নামেই জাতি যুদ্ধে পড়ে ঝাঁপিয়ে

জয় বাংলার জয়ধ্বনি বিশ্ব দিল কাঁপিয়ে।

ক) রোকনুজ্জামান খান সংগঠিত জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠনটির নাম কী?

খ) শেখ মুজিবের ঘর বাংলার কোনখানে আছে?

গ) উদ্দীপকের সঙ্গে ‘মুজিব’ কবিতার কী সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) ‘সাদৃশ্যগত দিকটিতে ‘মুজিব’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব প্রতিফলিত হয়নি’—তোমার বক্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দাও।

 

উদ্দীপকের উত্তর

ক) রোকনুজ্জামান খান সংগঠিত জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠনটির নাম ‘কচি-কাঁচার মেলা’।

খ) শেখ মুজিবের ঘর বাংলার সবখানে আছে।

রোকনুজ্জামান খান তাঁর ‘মুজিব’ কবিতায় বলেছেন যে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রকৃত ঠিকানা বা স্থায়ী ঘর তাঁর জন্মস্থানের নির্দিষ্ট গ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়—এ বাংলার সবুজ-শ্যামল, বনভূমি, মাঠ, নদীতীর, বালুচর অর্থাৎ বাংলার প্রত্যেকটি জায়গায় তাঁর আবাসস্থল বা ঘর রয়েছে।

গ) উদ্দীপকের সঙ্গে শেখ মুজিবের দেশপ্রেমের সাদৃশ্য রয়েছে।

‘মুজিব’ কবিতায় বলা হয়েছে, শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশের স্থপতি, জাতির পিতা। এই দেশকে ভালোবাসতেন বলেই তিনি সংগ্রাম করেছেন ও জীবন দিয়েছেন। তাঁর এই ভালোবাসা ও দেশপ্রেমের মূল্য অপরিসীম। আমরা বাঙালি যত দিন এ বাংলায় বেঁচে থাকব, তত দিন পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা মুজিবের এই দেশপ্রেম স্বীকার করবে।

উদ্দীপকেও এ সম্পর্কে বলা হয়েছে—বঙ্গবন্ধুর নাম দিয়েই বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে, আর তাদের কণ্ঠে ধ্বনিত জয় বাংলার জয়ধ্বনি সারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেয়। উদ্দীপকের এই ভাব ‘মুজিব’ কবিতার উপর্যুক্ত বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ) আমাদের জীবনের সর্বস্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে উপস্থিতির কথা ‘মুজিব’ কবিতায় বর্ণিত হয়েছে, উদ্দীপকে তার আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।

‘মুজিব’ কবিতায় কবি আমাদের জীবনের সর্বস্তরে বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি ঘোষণা করেছেন। এ দেশের সবুজ-শ্যামল বনভূমি, মাঠ-নদীতীর, বালুচরের সর্বত্রই শেখ মুজিবের ঘর অর্থাৎ উপস্থিতি বিদ্যমান। এ দেশের ফসলের মাঠে রাশি রাশি সোনার ধান দেখে কৃষকের মুখে যে আনন্দের হাসি ফোটে, সেই হাসি যেন মুজিবেরই হাসি। বাঙালির ঘর যখন শিশুর মধুর হাসিতে ভরে যায়, তখন শিশুর সেই অমলিন হাসির মধ্যে চিরশিশু মুজিবকে খুঁজে পাওয়া যায়। এ বাংলার মানুষ, প্রকৃতি, আকাশ-বাতাস সব জায়গায়ই তিনি বিরাজমান। যত দিন বাঙালি থাকবে, তত দিন তারা বঙ্গবন্ধুকে কাছে পাওয়ার জন্য আকুল হবে।

উদ্দীপকে শুধু বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে বাঙালি জাতির যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার দিকটির কথা বলা হয়েছে, আজীবন বাঙালি হৃদয়ে তাঁকে পাওয়ার আকুলতার কথা কিছুই বলা হয়নি।

উপর্যুক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, সাদৃশ্যগত দিকটিতে ‘মুজিব’ কবিতার সম্পূর্ণ ভাব প্রতিফলিত হয়নি—এ কথা ঠিক।

মন্তব্য