kalerkantho

নবম-দশম শ্রেণি

জীববিজ্ঞান

ফারহানা রহমান, সহকারী শিক্ষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, খিলগাঁও, ঢাকা

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জীববিজ্ঞান

সৃজনশীল প্রশ্ন

তৃতীয় অধ্যায় : কোষ বিভাজন

১।

ক) অবাত শ্বসন কী?

খ) মানবদেহে কিভাবে টিউমার সৃষ্টি হয়?

গ) চিত্র Y-তে প্রদর্শিত কোষ বিভাজনের তৃতীয় পর্যায়টির বর্ণনা দাও।

ঘ) উপরোক্ত দুই প্রকার কোষ বিভাজনের বিশ্লেষণ করো।

 

উত্তর :

ক) অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সংঘটিত শ্বসন হলো অবাত শ্বসন।

খ) মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় দেহে একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি—এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন চলতে থাকে। ফলে অর্বুদ গঠিত হয়ে টিউমার সৃষ্টি হয়।

গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র Y দ্বারা মাইটোসিস কোষ বিভাজন নির্দেশ করা হয়েছে। মাইটোসিস কোষ বিভাজন একটি অবিচ্ছিন্ন বা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের তৃতীয় পর্যায়টি হলো মেটাফেজ। এ পর্যায়ের প্রথমেই সব ক্রমোজম স্পন্ডলযন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান করে। ক্রমোজমগুলো বিষয়বীয় অঞ্চলে এসে সেন্ট্রোমিয়ারের মাধ্যমে স্পন্ডলতন্তুর সঙ্গে লেগে যায়। ক্রমোজমের বাহু দুটি মেরুমুখী হয়ে অবস্থান করে।

এ পর্যায়ে ক্রমোজমগুলো সর্বাধিক খাটো ও মোটা হয়। প্রতিটি ক্রমোজমের ক্রোমাটিড দুটির আকর্ষণ কমে যায়, বিকর্ষণ শুরু হয় এবং নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাসের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটে। মেটাফেজ পর্যায়ের শেষ দিকে সেন্ট্রোমিয়ারের বিভাজন শুরু হয় এবং নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ও নিউক্লিওলাস সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটে। এ অবস্থায় মেটাফেজ পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।

ঘ) উপরোক্ত চিত্র X ও Y-তে প্রদর্শিত মিয়োসিস ও মাইটোসিস কোষ বিভাজন জীবদেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদের মধ্যে মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় দেহকোষের আয়তন ও পরিমাণগত ভারসাম্য রক্ষিত হয়। এর ফলে বহুকোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। জাইগোট বারবার মাইটোসিস সৃষ্ট অপত্য কোষে ক্রমোজমের সংখ্যা ও গুণাগুণ একই রকম থাকায় জীবের দেহের বৃদ্ধি সুশৃঙ্খলভাবে হয়। এককোষী জীব মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বংশ বৃদ্ধি করে এবং জননকোষের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটায়। ক্ষতস্থানে নতুন কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে জীবদেহে ক্ষতস্থান পূরণ করে মাইটোসিস কোষ বিভাজন। মাইটোসিসে একই ধরনের কোষের উৎপত্তি হওয়ায় জীবজগতের গুণগত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। মিয়োসিস কোষ বিভাজন জীবের ক্রমোজম সংখ্যা বংশপরম্পরায় অপরিবর্তিত থাকে। যদি জননকোষগুলোকে ক্রমোজম সংখ্যা দেহ কোষের সমান থেকে যায়, তাহলে জাইগোট ক্রমোজম সংখ্যার দ্বিগুণ হয়ে যাবে। ফলে বংশপরম্পরায় ক্রমোজম সংখ্যার আমূল পরিবর্তন ঘটায়। এ ছাড়া মিয়োসিস প্রক্রিয়ার সময় জিনের আদান-প্রদান ঘটে বলে প্রজাতির মধ্যে বৈচিত্র্য দেখা যায়। তাই বলা যায়, জীবের বৃদ্ধি ও বংশ রক্ষায় উপরোক্ত কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া দুটির তাৎপর্য অপরিসীম।

মন্তব্য