kalerkantho

জানা-অজানা

থানকুনি

[ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের চতুর্থ অধ্যায়ে ‘থানকুনি’র কথা উল্লেখ আছে]

২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



থানকুনি

থানকুনি এক ধরনের ছোট ভেষজ উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Centella asiatica। বাংলাদেশ, ভারত, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া ও এশিয়ার অন্যান্য প্রান্তে এই উদ্ভিদ পাওয়া যায়। ভেষজ হিসেবে এর বহুল ব্যবহার আছে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শাস্ত্রে। এ ছাড়া অনেক দেশের চিকিৎসাবিদ্যায় এর ব্যবহার লক্ষ করা যায়।

বাংলাদেশের অঞ্চলভেদে থানকুনি উদ্ভিদকে আদামনি, তিতুরা, টেয়া, মানকি, থুলকুড়ি প্রভৃতি নামে ডাকা হয়। তবে বর্তমানে থানকুনি নামেই এটি বেশি পরিচিত।

উপকারী এই ভেষজ উদ্ভিদটি সাধারণত স্যাঁতসেঁতে পরিবেশেই বেশি জন্মে। তাই পুকুরপাড় বা জলাশয়ের পাশে এদের বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে বাড়ির আশপাশে, রাস্তার পাশে কিংবা ক্ষেতের আলে এই উদ্ভিদ জন্মে। এই উদ্ভিদের পাতার মধ্যে রয়েছে ঔষধি সব গুণ। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ যদি নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করে, তাহলে মাথার চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশের কর্মক্ষমতা বাড়তে শুরু করে। এটি মুখে ঘা ও অন্যান্য ক্ষতের জন্যও উপকারী। পাশাপাশি সর্দি, পেটের অসুখ, আমাশয়, সাময়িক কাশি ইত্যাদি রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে।

নানা রোগের ডাক্তার ছোট্ট এই থানকুনি উদ্ভিদটি বাড়ির ছাদে কিংবা বারান্দায় টবেও চাষ করা যায়। এর পাতায় উপস্থিত অ্যামাইনো এসিড, বিটা ক্যারোটিন এবং ফাইটোকেমিক্যাল ত্বকে পুষ্টির ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি বলিরেখা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই স্কিনের ঔজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। সেই সঙ্গে কম বয়সে ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার এই পাতার রস খেলে মাথার চুল পড়ার মাত্রা কমে যায়। তবে একাধারে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার আশঙ্কা থাকে।                     

 

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল  

মন্তব্য