kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৬ জুলাই ২০১৯। ১ শ্রাবণ ১৪২৬। ১২ জিলকদ ১৪৪০

জানা-অজানা

সারিগান

[ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ষষ্ঠ অধ্যায়ে সারিগানের কথা উল্লেখ আছে]

আব্দুর রাজ্জাক   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সারিগান

নৌকার মাঝি-মাল্লারা সারিবদ্ধভাবে বসে বৈঠার তালে তালে যে গান গায়, তা-ই সারিগান। এ গান শ্রমিক ও কর্মজীবীদের কাছেও খুব জনপ্রিয়। তারা শ্রম লাঘব করার জন্য এ গান গেয়ে থাকে, এ জন্য গানটি শ্রমসংগীত বা কর্মসংগীত নামেও পরিচিত। মধ্য যুগের কবি বিজয়গুপ্তের পদ্মাপুরাণে সারিগানের উল্লেখ আছে। সেখানে ‘সারি’ শব্দটি সংগীত অর্থে ব্যবহার হয়েছে। মোগল আমলে নৌবাহিনী নৌকাবাইচের গোড়াপত্তন করে। এর ফলে গ্রামবাংলায় সারিগানের ব্যাপক প্রসার ঘটে। একপর্যায় কৃষকরা হাল বাওয়া, ফসল নিড়ানো, ফসল কাটা, ফসল তোলার সময় শ্রম লাঘব করার জন্য এ গান গাইত। বর্তমানে চিত্তবিনোদন ও প্রতিযোগিতামূলক খেলার জন্য গাওয়া হয়। সারিগান মূলত সমবেত কণ্ঠে পুরুষরা গায়। তবে কোনো কাজে মেয়েরা অংশগ্রহণ করলে এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ একত্রে গায়। সারিগানে একজন বয়াতি থাকে। সে মূল গানটি করেন এবং ফাঁকে ফাঁকে দোহারদের ‘দিশা’ ধরিয়ে দেন। দোহাররা সমবেত কণ্ঠে তা গেয়ে বয়াতিকে ক্ষণিক বিশ্রামের সুযোগ করে দেয়। সারিগান মূলত তালপ্রধান। দ্রুত ও ধীর লয়ে এ গান গাওয়া হয়। এ গানের বিষয়বস্তুর মধ্যে রয়েছে—রাধাকৃষ্ণ, হরগৌরী ও নিমাইবিষয়ক গান, নর-নারীর প্রেমমূলক গান, প্রশস্তিমূলক গান, মরমি গান, হাস্যকৌতুক ও আক্রমণাত্মক গান। বছরের যেকোনো সময় এ গান গাওয়া যায়। নদ-নদী, হাওর-বাঁওড় আর কৃষিক্ষেত এ গান পরিবেশনের অন্যতম স্থান। সারিগানের অঞ্চল বলতে সাধারণত পূর্ব ও নিম্ন বঙ্গের ভাটি অঞ্চলকে বোঝায়। অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, পাবনা, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল।    

 

মন্তব্য