kalerkantho

সোমবার । ২২ জুলাই ২০১৯। ৭ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৮ জিলকদ ১৪৪০

জানা-অজানা

খড়ম

[ষষ্ঠ শ্রেণির চারুপাঠ বইয়ে ‘খড়ম’-এর কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

১৭ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



খড়ম

কাঠের তৈরি পায়ের জুতাবিশেষ বা পাদুকাকে খড়ম বলে। প্রাচীনকালে খড়মের উদ্ভব। হিন্দি খডৌঙ শব্দ থেকে বাংলায় খড়ম শব্দটি এসেছে। পায়ের মাপে কাঠ কেটে সামনের দিকে কাঠের গুটি বসিয়ে খড়ম তৈরি করা হয়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। বাংলাদেশেও একসময় এর প্রচলন ছিল। জমিদার ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোকেরা খড়ম ব্যবহার করত। তখন পাদুকা বলতেই ছিল কাঠের তৈরি খড়ম। রাতে শোবার আগে পুকুর থেকে পা ধুয়ে আসতে, অজু করে ঘাট থেকে মসজিদে যেতে তারা খড়ম ব্যবহার করত। হিন্দুদের মহাকাব্য রামায়ণে খড়ম ব্যবহারের কথা উল্লেখ আছে। রামচন্দ্র তাঁর স্ত্রী সীতা ও ছোট ভাই লক্ষ্মণকে নিয়ে বনবাসে গেলে তাঁর আরেক ভাই ভরত রামের খড়ম সিংহাসনের বসিয়ে রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন। হিন্দুরা একে দেবতা ও শ্রদ্ধেয় সাধু-সন্ন্যাসীদের পদচিহ্নের প্রতীকও মনে করত। হিন্দুদের পাশাপাশি জৈনধর্মের ভিক্ষাজীবী সাধু-সন্ন্যাসীরা খড়ম ব্যবহার করতেন। ভারত উপমহাদেশের বিশিষ্ট আউলিয়া হজরত শাহজালাল (রহ.) ১৪শ শতকে সুদূর তুরস্ক থেকে সিলেট এসেছিলেন খড়ম পায়ে দিয়ে। পরে সিলেটেই বসতি স্থাপন করেন। তাঁর ব্যবহৃত খড়ম এখনো তাঁর সমাধিস্থল সংলগ্ন স্থাপনায় রক্ষিত আছে।

 

মন্তব্য