kalerkantho

রবিবার । ২৬ মে ২০১৯। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ২০ রমজান ১৪৪০

অষ্টম শ্রেণি

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়

আফরোজা বেগম, সহকারী শিক্ষক, ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল, খিলগাঁও, ঢাকা

১৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সৃজনশীল প্রশ্ন

তৃতীয় অধ্যায়:

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন

উদ্দীপক:

ক) প্রাচীন বাংলার কোন কাপড়ের বেশ খ্যাতি ছিল?

খ) সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

গ) উদ্দীপকে ‘খ’ দ্বারা কোন শিল্পকে বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) বাঙালির সৃজনশীল মনের বিকাশে ‘ক’ শিল্পটির ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।

 

সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর :

ক) প্রাচীন বাংলার দুকূল কাপড়ের বেশ খ্যাতি ছিল।

খ) আত্তীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়া, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে।

সংস্কৃতির পরিবর্তনশীলতার অনেক কারণের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো সাংস্কৃতিক আত্তীকরণ। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী অন্যের সংস্কৃতি আয়ত্ত করে। যখন মানুষ কোনো নতুন সংস্কৃতি বা সাংস্কৃতিক পরিবেশে বসবাস করতে আসে, তখন সেখানকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি, আচরণ, চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ এককথায় সমগ্র জীবনধারার সঙ্গে আত্তীকৃত হতে চেষ্টা করে। এভাবে একসময় আত্তীকরণ হয়ে যায়। যেমন : বিয়ের পরে মেয়েরা শ্বশুরবাড়ির সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে আত্তীকরণ করতে চেষ্টা করে।

গ) উদ্দীপকে ‘খ’ দ্বারা সংগীতশিল্পকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

মানুষ তার অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখতে এবং তার মৌলিক প্রয়োজনগুলো পূরণের লক্ষ্যে যা কিছু সৃষ্টি করে তাই হলো তার সংস্কৃতি। এর মধ্যে সৃষ্টিশীল কিছু কিছু কাজ সংস্কৃতির বিচারে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব কাজে একটি জাতির সৃজনশীল প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়। এগুলোকে আমরা বলি শিল্পকলা। শিল্পকলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হচ্ছে সংগীতশিল্প।

উদ্দীপকে একটি ছক দেওয়া আছে, যেখানে ‘খ’ শিল্পের উপাদান উল্লেখ করা আছে খেউর, পাঁচালি ও বারমাস্যা। এগুলো সংগীতশিল্পকে ইঙ্গিত করছে। বাংলা চিরকালই সংগীতের দেশ। বাংলার দুই আদি সংগীত হচ্ছে চর্যাপদ ও বৈষ্ণব পদাবলি। কীর্তনগান হিন্দু সমাজে হতো, এখনো হয়। বাউল ও ভাটিয়ালি গান গ্রামের হিন্দু-মুসলিম সবাই গেয়ে থাকে। মুর্শিদি, পালাগান, বারমাস্যা, ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা ইত্যাদি বহু ধরনের আঞ্চলিক লোকগান ছড়িয়ে আছে সারা বাংলাজুড়ে। রবীন্দ্রনাথের হাতে বাংলার নাগরিক গান উৎকর্ষের শীর্ষে পৌঁছে। কাজী নজরুল ইসলাম আপন স্বাতন্ত্র্যে ও বৈচিত্র্যে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন। তিনি প্রায় ছয় হাজারের মতো গান লিখেছেন। অতুল প্রসাদ সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, রজনীকান্ত সেনের আধুনিক বাংলা গানের সমৃদ্ধিতে অবদানও ব্যাপক। বাংলার সংগীতশিল্প এভাবেই তাঁদের দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েছে।

ঘ) বাঙালির সৃজনশীল মনের বিকাশে ‘ক’ শিল্পটি অর্থাৎ দৃশ্যশিল্পের ভূমিকা অপরিসীম, কেননা এ শিল্পের মাধ্যমে বাঙালি জাতির চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, মেধা ও মননের পরিচয় পাওয়া যায়।

সংস্কৃতি হলো মানুষের জীবনযাপন প্রণালী। খাদ্য, বাসস্থান, পোশাক, অলংকার, উৎসব, ভাষা-সাহিত্য সবই তার সংস্কৃতির অংশ। এর মধ্যে সৃষ্টিশীল কিছু কিছু কাজ সংস্কৃতির বিচারে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে একটি জাতির চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীল প্রতিভার পরিচয় পাওয়া যায়, যাকে বলা হয় শিল্পকলা। শিল্পকলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দৃশ্যশিল্প, যা সংস্কৃতির বস্তুগত উপাদানের অন্তর্ভুক্ত।

উদ্দীপকে একটি ছক দেওয়া আছে, যেখানে ‘ক’ শিল্পের উপাদান উল্লেখ করা আছে এলাচি, নবাব কাটরা, আটচালা ঘর। এগুলো দৃশ্যশিল্পকে ইঙ্গিত করছে। দৃশ্যশিল্প সংস্কৃতির বস্তুগত উপাদানের অন্তর্ভুক্ত।

আবহমানকাল ধরে বাংলার সাধারণ মানুষের জীবন প্রণালী যেমন—বাসস্থান তৈরি, পোশাক, নির্মাণ কৌশল, অভ্যাস ইত্যাদি সংস্কৃতির বস্তুগত উপাদানগুলো দৃশ্যশিল্পের অন্তর্ভুক্ত। এই প্রতিটি বিষয়ের মধ্যে বাঙালির সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। বাংলার তাঁতশিল্পের সুনাম বহুকালের। এলাচি, দুকূল, ক্ষৌম, কার্পাস কাপড়ের যেমন খ্যাতি ছিল, তেমনি বাংলার বিখ্যাত মসলিন কাপড় দিয়ে কিংবদন্তিরও সৃষ্টি হয়েছিল। সুলতানি আমল থেকে বাংলার স্থাপত্যশিল্পে ইরানি প্রভাব পড়তে শুরু করে। গম্বুজ ও খিলানসহ মসজিদ তো নির্মিত হয়েছেই, অনেক দপ্তর ও বাড়িঘরও তৈরি হয়েছে এই রীতিতে। ছোট সোনা মসজিদ, নবাব কাটরা, লালবাগের কুঠি ইত্যাদি বাংলার স্থাপত্যশিল্পেও সৃজনশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। বাংলার মাটি এবং এখানে জন্মানো বাঁশ দ্বারা বাংলার মানুষ যে দোচালা, চারচালা, আটচালা ঘর তৈরি করেছে সেখানেও বাঙালির সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটেছে। বাঙালির সৃজনশীল, চিন্তাশীল, সৃষ্টিশীল মনের বিকাশে দৃশ্যশিল্প সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মন্তব্য