kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

পঞ্চম শ্রেণি

বাংলা

লুত্ফা বেগম, সিনিয়র শিক্ষক, বিএএফ শাহীন কলেজ, কুর্মিটোলা, ঢাকা

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলা

রচনা

বিজয় দিবস

 

ভূমিকা : যুদ্ধের সব দুর্যোগ শেষে

স্বাধীনতা দেশ পায়

সবুজের মাঝে সূর্যের লাল

আমাদের পতাকায়

(স্বাধীনতা তুমি—জাহাঙ্গীর হাবীব উল্লাহ)

 

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের এক আনন্দ ও গৌরবময় দিন। দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তিতে এ দিনে আমাদের প্রিয় স্বদেশ দখলদার মুক্ত হয়। এ দিনেই বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। বাঙালির জাতীয় জীবনে এ দিবস তাই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

 

ঐতিহাসিক পটভূমি :

বাংলার মাটি বড় শক্ত

সোজা নয় শহীদের রক্ত

স্বাধীনতা চাই পথ চলবার

মুখ ফুটে হক কথা বলবার।

(ছড়া-সুকুমার রায়)

বাংলাদেশের বিজয় অর্জনের সাফল্যের পেছনে বাঙালি জাতির দীর্ঘ দিনের সংগ্রামের ইতিহাস জড়িত। ১৯৪৭ সালে ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ শাসনামলের অবসানের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্রের একটি অংশ পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানকে প্রথম থেকেই শাসন, শোষণ ও পীড়ন করতে থাকে। এরই প্রেক্ষাপটে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন হয়। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার রাজপথে শহীদ হন সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতসহ আরো অনেকে। এর পরই শুরু হয় স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলন। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে বর্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এ দেশের নিরীহ মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা শুরু করে। গ্রেপ্তার করে বাঙালির প্রাণপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। গ্রেপ্তারের আগে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। তাঁর সেই আহ্বানে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিসংগ্রাম। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের বহু কাঙ্ক্ষিত বিজয় অর্জিত হয়। কবির ভাষায়—

একাত্তরের মধ্যে আছে স্বপ্ন, সাহস যুদ্ধ

গর্ব অহং শক্তি আবেগ, প্রাণের তাপে শুদ্ধ।

(অগ্নিঝরা একাত্তর—হাসান হাফিজ)

 

বিজয় দিবস উদ্্যাপন :

একটি সাগর রক্ত ঢেলে

ফুটল যে ফুল পাপড়ি মেলে।

এই বাংলায় বিজয় এলো

ডিসেম্বরের শেষে

 (বিজয় এলো : ওয়াসিফ-এ খোদা)

প্রতিবছর ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদ্্যাপনের জন্য আমরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। এ দিবসের অনুষ্ঠানমালা আমাদের স্বাধীনতার চেতনাকে শাণিত করে।

দিবসটির তাৎপর্য :

মনে আপনার ঝলসে উঠে।

একাত্তরের কথা

পাখির ডানায় লিখেছিলাম

প্রিয় স্বাধীনতা।

 (প্রিয় স্বাধীনতা-শামসুর রাহমান)

জাতীয় জীবনে বিজয় দিবসের তাৎপর্য ও গুরুত্ব অপরিসীম। এ দিবসটি বাঙালি জাতিকে ‘বীরবাঙালি’ হিসেবে বিশ্বের বুকে পরিচিতি দিয়েছে। এ দিবসটি আমাদের বারবারই স্মরণ করিয়ে দেয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের কথা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কথা ও বীরশ্রেষ্ঠদের কথা। সব অন্যায়-অত্যাচার, শোষণ-দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বিজয় দিবস আমাদের মনে প্রেরণা সৃষ্টি করে।

 

আমার করণীয় : প্রতিবছর সবিশেষ মর্যাদা নিয়ে জাতির সামনে হাজির হয় বিজয় দিবস। তাই এ বিজয়কে অক্ষুুণ্ন ও সমুন্নত রাখা আমার কর্তব্য। সেই সঙ্গে দেশ ও জাতিকে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার কাজও আমাদের করতে হবে।

 

উপসংহার :

তাড়িয়ে আঁধার, কষ্ট-ব্যথা,

দুঃখ করে শেষ

বিজয় সুখে হাসছে এখন

আমার বাংলাদেশ

 (মায়ের হাসি স্বাধীনতা—রাশেদ রউফ)

ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন একটি দেশ। এ দিবসটি তাই আমাদের হৃদয়ে যেমন আনন্দ-বেদনার সঞ্চার করে, তেমনি নতুন চেতনায়ও জাগ্রত করে। যাঁদের ত্যাগের বিনিময়ে এ বিজয় আমরা অর্জন করেছি, সেই বিজয়কে সমুন্নত রাখার দায়িত্ব আমাদের সবার। এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের দেশ গড়ার শপথ নিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা