kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

এইচএসসি প্রস্তুতি

বাংলা প্রথম পত্র

শাহনাজ আক্তার শিরিন, প্রভাষক, বাংলা বিভাগ, শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ, মিরপুর, ঢাকা

৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলা প্রথম পত্র

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

সৃজনশীল প্রশ্ন

চাষার দুক্ষু

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন

 

উদ্দীপকটি পড়ো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও : সিরাজগঞ্জের এক প্রত্যন্ত গ্রামে জমিলা বানু বাস করে। কিছুদিন আগেও তার সংসারে সচ্ছলতা ছিল না। অভাব-অনটন ছিল তার সংসারের নিত্যসঙ্গী। বর্তমানে জমিলা হস্তশিল্পের কাজে নিযুক্ত হয়ে সচ্ছলতার মুখ দেখেছে। তার হাতে তৈরি মাদুর, হাতপাখা, বেতের ঝুড়ির বেশ কদর রয়েছে।

ক) কৌপীন শব্দের অর্থ কী?

খ) ‘ধান্য তার বসুন্ধরা যার’—ব্যাখ্যা করো।

গ) ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের কৃষক রমণীদের সঙ্গে উদ্দীপকের জমিলার বৈসাদৃশ্য নিরূপণ করো।

ঘ) ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের লেখক যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উদ্দীপকের বিষয়বস্তু যেন তারই প্রতিফলন—বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : ক) কৌপীন শব্দের অর্থ ল্যাঙ্গট।

খ) আলোচ্য উক্তি দিয়ে ভূমিহীন চাষিদের দুরবস্থার চিত্র ফুটে উঠেছে। জমির ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষক দিন-রাত পরিশ্রম করে; কিন্তু উৎপাদিত ফসলের ওপর তার অধিকার থাকে না। কারণ কৃষকের নিজস্ব জমি নেই। ভূস্বামী জমিদারদেরই ফসলের একচ্ছত্র অধিকার থাকে। ভূস্বামীদের দয়া-দাক্ষিণ্যের ওপরই কৃষকদের নির্ভর করতে হয়। কৃষক ফসল উৎপাদন করলেও জমির ফসলের ওপর তাদের মালিকানা থাকে না বলে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

গ) ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের কৃষক রমণীরা অলস ও অনুকরণপ্রিয়; অন্যদিকে উদ্দীপকের জমিলা কর্মঠ ও স্বনির্ভর।

অলস ও অনুকরণপ্রিয় মানুষ দেশ ও সমাজের বোঝাস্বরূপ। এ ধরনের মানুষ পরিবার ও সমাজের উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না। কাজের মধ্যেই রয়েছে উন্নয়নের মূলমন্ত্র।

উদ্দীপকের জমিলা দারিদ্র্যের মাঝে বসবাস করলেও হার মানেনি। সে লড়াই করেছে। পরিশ্রম করে সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে। হস্তশিল্প বাংলাদেশের গৌরব। জমিলা বানু হস্তশিল্পের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে অর্থ উপার্জন করে। অন্যদিকে ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের কৃষক রমণীরা অনুকরণপ্রিয়, বিলাসী ও কর্মবিমুখ। তাদের বস্ত্রের অভাব থাকলেও বিলাসিতায় মগ্ন। তারা হাতে তৈরি কাপড়ের পরিবর্তে দাম দিয়ে কেনা মিহি ও রঙিন কাপড়ে আগ্রহী। নিজেদের অভাব-দারিদ্র্য লাঘবের কোনো প্রচেষ্টা তাদের মধ্যে নেই। আর তাই বলা যায়, উদ্দীপকের জমিলা এবং ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের কৃষক রমণীরা বিপরীতধর্মী।

ঘ) ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে লেখক যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উদ্দীপকের বিষয়বস্তু যেন তারই প্রতিফলন—মন্তব্যটি যথার্থ।

উদ্দীপকের জমিলা বানু নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বাংলার ঐতিহ্য হস্তশিল্পের সাহায্য নিয়েছে। জমিলা বানুর সংসারে অভাব-অনটনের সীমা ছিল না। সংসারের দারিদ্র্য দূর করার জন্য জমিলা বানু হস্তশিল্পের কাজে নিযুক্ত হয়। হাতে তৈরি মাদুর, হাতপাখা, বেতের ঝুড়ি বাজারে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করে জমিলা বানু বর্তমানে সচ্ছল জীবনযাপন করছে।

অন্যদিকে ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কর্মঠ নারীর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। দারিদ্র্য দূর করার জন্য তিনি দেশীয় পণ্য ব্যবহার ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধে লেখিকা চাষাদের দারিদ্র্যের স্বরূপ ও কারণ চিহ্নিত করেছেন। বিলাসিতা ও অনুকরণপ্রিয়তা কৃষকের দারিদ্র্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ; গ্রামীণ কুটির শিল্পের বিপর্যয়ও কৃষকের দারিদ্র্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। কৃষকের অবস্থার উন্নয়নের জন্য রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কুটির শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। কুটির শিল্পের পুনর্জাগরণই চাষার দুক্ষু দূর করতে পারবে বলে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন মত ব্যক্ত করেছেন। আর তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধের লেখিকার আশাবাদই প্রতিফলিত হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা