kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

এসএসসি প্রস্তুতি

জীবিজ্ঞান

সুনির্মল চন্দ্র বসু, সহকারী অধ্যাপক, সরকারি মুজিব কলেজ, সখীপুর, টাঙ্গাইল

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জীবিজ্ঞান

সৃজনশীল প্রশ্ন

পঞ্চম অধ্যায়

খাদ্য, পুষ্টি ও পরিপাক

চিত্রটি দেখে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :

ক) খনিজ পুষ্টি কী?   ১

খ) যকৃতকে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয় কেন?    ২

গ) চিত্রের O চিহ্নিত অঙ্গটিতে কিভাবে খাদ্যের পরিপাক সংঘটিত হয়? বর্ণনা করো।    ৩

ঘ) খাদ্য পরিপাকে P ও Q-এর মধ্যে কোনটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ—বিশ্লেষণ করো।    ৪

উত্তর : ক) উদ্ভিদ তার বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য মাটি, বায়ু ও পানি থেকে কতগুলো উপাদান শোষণ করে। এ উপাদানগুলোর অভাবে উদ্ভিদ সুষ্ঠুভাবে বাঁচতে পারে না। এ উপাদানগুলোকে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান বলে। এসব পুষ্টি উপাদানের অধিকাংশই উদ্ভিদ মাটি থেকে সংগ্রহ করে বলে এদের খনিজ পুষ্টি বলে।

খ) যকৃত মানব দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। তাই যকৃতকে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

গ) চিত্রের O চিহ্নিত অঙ্গটি হলো পাকস্থলী।

পাকস্থলীতে খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়া নিচে বর্ণনা করা হলো— পাকস্থলিতে খাদ্য আসার পর অন্তঃপ্রাচীরের গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি থেকে গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়। এই রসে প্রধান যে উপাদানগুলো থাকে তা হলো—

হাইড্রোক্লোরিক এসিড : হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাদ্যের মধ্যে কোনো অনিষ্টকারী ব্যাকটেরিয়া থাকলে তা মেরে ফেলে, নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেনকে সক্রিয় পেপসিনে পরিণত করে এবং পাকস্থলীতে পেপসিনের সুষ্ঠু কাজের জন্য অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে।

              HCL

নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন --- →  সক্রিয় পেপসিন

 

 

পেপসিন : এক ধরনের এনজাইম যা আমিষকে ভেঙে দুই বা ততোধিক অ্যামাইনো এসিড দ্বারা তৈরি যৌগ গঠন করে যা পলিপেপটাইড নামে পরিচিত।

     পেপসিন

আমিষ --- →  পলিপেপটাইড

পাকস্থলীর অনবরত সংকোচন ও প্রসারণ এবং এনজাইমের ক্রিয়ার ফলে খাদ্য মিশ্র খণ্ডে পরিণত হয়। একে পাকমণ্ড বা কাইম বলে। এই মণ্ড অনেকটা স্যুপের মতো ও কপাটিকা ভেদ করে ক্ষুদ্রান্তে প্রবেশ করে।

ঘ) উদ্দীপকে P ও Q হলো যথাক্রমে যকৃত ও অগ্ন্যাশয়। খাদ্য পরিপাকের ক্ষেত্রে অগ্ন্যাশয় যকৃতের তুলনায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো—

মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হলো যকৃত। যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। আর পিত্তথলিতে পিত্তরস জমা হয়। পিত্তরসে রয়েছে পিত্তলবণ, পানি, কোলেস্টেরল ও খনিজ লবণ। পিত্তরস খাদ্যের অম্লভাব দূর করে ক্ষারীয় পরিবেশ আনায়ন করে। এতে স্নেহ পরিপাকের জন্য লাইপেজ এনজাইমকে সহযোগিতা করে। যকৃতে খাদ্য পরিপাক করার জন্য কোনো এনজাইম নেই।

অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পেছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও হরমোন নিঃসৃত করে। অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়। অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক এনজাইম থাকে। এসব এনজাইম আমিষ, স্নেহ ও শর্করা জাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে। তা ছাড়া অম্ল-ক্ষারের সম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে।

সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে খাদ্য পরিপাকে অগ্ন্যাশয় অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উদ্ভিদ তার বৃদ্ধি ও পরিপুষ্টির জন্য মাটি, বায়ু ও পানি থেকে কতগুলো উপাদান শোষণ করে। এ উপাদানগুলোর অভাবে উদ্ভিদ সুষ্ঠুভাবে বাঁচতে পারে না। এ উপাদানগুলোকে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান বলে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা