kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গি ছিনতাই

২২ নভেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিন

২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে ময়মনসিংহের ত্রিশাল এলাকায় মহাসড়কে থাকা প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়েছিল তাদের সহযোগীরা। এবার খোদ রাজধানীর আদালত চত্বর থেকে গত রবিবার দুপুর ১২টার দিকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়েছে তাদের সহযোগীরা। আদালতপাড়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোর অনেক সদস্য কর্মরত থাকেন। জঙ্গিদের পাহারায়ও পুলিশ সদস্য ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

তাঁরা কেউ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়া ঠেকাতে পারেননি। জানা গেছে, জঙ্গিদের হামলায় আহত এক পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গিদের ধরতে সারা দেশে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। দুই জঙ্গিকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা করে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পুলিশ পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে পুলিশের চরম অপেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় এটা স্পষ্ট যে জঙ্গিরা নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোই তেমন কিছু আলামত তুলে এনেছে। অর্ধশতাধিক তরুণের রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়া, তাদের কিছু গ্রেপ্তার হওয়া এবং জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া, পার্বত্যাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে জঙ্গিদের আস্তানা ও প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা, ভিন্ন দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকার অত্যাধুনিক অস্ত্র ক্রয়—এমন আরো অনেক তথ্যই উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী কিছুদিন ধরে পার্বত্য এলাকার কিছু স্থানে অভিযানও পরিচালনা করছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা নানা ধরনের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরছেন। বলা হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে জঙ্গিরা দেশব্যাপী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এমন একটি সময়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই দুর্ধর্ষ জঙ্গিকে আদালতে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে যে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল তা যে যথেষ্ট ছিল না তা জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা থেকেই প্রমাণিত হয়েছে।

২০১৪ সালে জঙ্গিরা যে তিনজনকে ছিনিয়ে নিয়েছিল, তাদের মধ্যে একজন পরে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছিল। একজন পালিয়ে ভারতে গিয়ে ভারতীয় পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল। আরেকজনের কোনো হদিস এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এবার যে দুজনকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তাদের দশা কী হবে আমরা জানি না। তবে ঘটনাটি আমাদের নিরাপত্তাব্যবস্থার বড় দুর্বলতাকেই তুলে ধরেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ঘটনার সঙ্গে বাহিনীর কোনো কোনো সদস্যের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তেমনটি হবে অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করতে হবে। হলি আর্টিজানে হামলা, শোলাকিয়া ঈদগাহ জামাতে হামলার চেষ্টাসহ আরো অনেক ঘটনায় গোয়েন্দা ব্যর্থতা আমাদের জন্য বড় বেশি পীড়াদায়ক ছিল। আমরা মনে করি, দেশব্যাপী গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ও নজরদারি অত্যন্ত শক্তিশালী করতে হবে। দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের পরিবহনে আরো বেশি সতর্ক হতে হবে। নির্বাচনের আগে জঙ্গিরা যাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে না পারে সে জন্য সব বাহিনীকে অনেক বেশি তৎপর থাকতে হবে। ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।



সাতদিনের সেরা