kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সুপারিশগুলো বিবেচনায় নিন

টেকসই অগ্রযাত্রা

১ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুপারিশগুলো বিবেচনায় নিন

বাংলাদেশ দ্রুত এগোচ্ছে। বিশ্বব্যাংকও স্বীকার করেছে, গত এক দশকে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তবে এ নিয়ে খুব বেশি আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। কারণ বাংলাদেশের এই অর্জনগুলো এখনো খুব শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বিজ্ঞাপন

যেকোনো বড় ধরনের আঘাতে ধসে পড়তে পারে এই অর্জনগুলো। আর ২০২৬ সালে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটছে উন্নয়নশীল দেশে। বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখছে, ২০৪১ সালে উন্নত দেশে রূপান্তরিত হওয়ার। এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যও আমাদের অর্জনগুলোকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক কিছু পরামর্শ দিয়েছে। তারা বলেছে, বর্তমান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে তিনটি খাতে বাংলাদেশকে ব্যাপক সংস্কার করতে হবে। সেগুলো হলো দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক খাত, রপ্তানি বাণিজ্য বহুমুখীকরণ এবং স্থিতিশীল নগরায়ণ।

আমাদের আর্থিক খাতের অনেক দুর্বলতা আছে। শুধু বিশ্বব্যাংক নয়, স্থানীয় অর্থনীতি বিশ্লেষকরাও দীর্ঘদিন ধরে সেই দুর্বলতাগুলো নিয়ে কথা বলছেন। এর মধ্যে একটি বড় দুর্বলতা হচ্ছে খেলাপি ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল এক লাখ ২৫ হাজার ২৫৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা গত মার্চে ছিল এক লাখ ১৩ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে বেড়েছে ১১ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। এ নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে, কিন্তু খেলাপি ঋণ কমছে না, বরং বেড়েই চলেছে। রাজস্ব আহরণে আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির হারও সামান্য। রপ্তানি বাণিজ্য বহুমুখীকরণের যে তাগাদা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক, সেই তাগাদা দীর্ঘদিন ধরেই দিয়ে আসছেন আমাদের অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা। এখনো দেশের মোট রপ্তানির ৮৩ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে। এই একটি পণ্যের রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল থেকে আমাদের অগ্রগতি কখনো মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারবে না। তবে সুখের বিষয়, তৈরি পোশাক ছাড়াও ওষুধশিল্প, জাহাজশিল্প, প্লাস্টিক, চামড়াসহ আরো কিছু খাত রপ্তানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। এ খাতগুলোর অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। আর উন্নত দেশ হওয়ার একটি প্রধান শর্ত হলো স্থিতিশীল নগরায়ণ। মানুষ ক্রমেই নগরকেন্দ্রিক হচ্ছে। নগর অঞ্চলগুলোতে ক্রমেই মানুষের চাপ বাড়ছে। এই নগরগুলো হবে সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন। এগুলোকে গড়ে তুলতে হবে অপেক্ষাকৃত ছোট এবং আর্থিক দিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে। বলা যায়, বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে যেসব সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিই নতুন নয়। আমাদের অর্থনীতিবিদরা যেমন এসব কথা বলে আসছেন, তেমনি সরকারও এসব সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এসব সংস্কারের কথা বলা আছে। এখন প্রয়োজন হচ্ছে সংস্কারের উদ্যোগ ত্বরান্বিত করা।

সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ু পরিবর্তন। আছে যুদ্ধ ও অস্থিরতার আশঙ্কা। সেই সঙ্গে আছে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি। আছে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা। অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে হলে এবং উন্নয়নের গতি আরো ত্বরান্বিত করতে হলে আমাদের অবশ্যই নানামুখী উদ্যোগ বাড়াতে হবে। আমরা আশা করি, আমাদের নীতিনির্ধারকরা বিশ্বব্যাংকের সুপারিশগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবেন।

 

 



সাতদিনের সেরা