kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

পর্যাপ্ত হল নির্মাণ করুন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসনসংকট

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পর্যাপ্ত হল নির্মাণ করুন

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবাসিক সমস্যা ও সংকট দীর্ঘদিনের। নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, নতুন বিভাগ খোলা এবং গণহারে সরকারি ও বেসরকারি কলেজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর কোর্স চালু এ সমস্যা ও সংকট আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। এখনো আমাদের দেশে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও গরিব ঘরের সন্তান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি ভর্তি হন। তাঁদের পক্ষে মেস কিংবা বাসা ভাড়া করে পড়াশোনা করা কষ্টসাধ্য।

বিজ্ঞাপন

অনেককে টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ চালাতে হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকতে গিয়ে অনেককে শুরুতেই হোঁচট খেতে হয়। একদিকে আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের থাকতে হয় গাদাগাদি করে, অন্যদিকে ‘গণরুম’ বলে নতুন এক ব্যবস্থা চালু হয়েছে এসব আবাসিক হলে। এর ওপর আছে রাজনৈতিক, অর্থাৎ ছাত্রসংগঠনগুলোর আধিপত্য, ক্ষেত্রবিশেষে তাকে দৌরাত্ম্যও বলা যেতে পারে। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সেই দলের সহযোগী ছাত্রসংগঠন আবাসিক হলের দখলদারিই যেন নিয়ে নেয়।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা নিয়ে কালের কণ্ঠে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সেসব প্রতিবেদনের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, শতবর্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১৯টি আবাসিক হলের মধ্যে ছাত্রদের ১৩টি, ছাত্রীদের পাঁচটি এবং একটি আন্তর্জাতিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩টি ছাত্র হলেই ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি শিক্ষার্থী থাকেন। গণরুমে এক কক্ষে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে থাকতে হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬ হাজার ৩১৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য মোট হল ১৭টি। ছাত্রদের আবাসিক হল ১১টি, ছাত্রীদের ছয়টি। এসব হলে মোট ৯ হাজার ৯৩৪টি আসন আছে। হলে থাকতে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। সমস্যার মধ্যে রয়েছে ওয়াই-ফাই সমস্যা, ডাইনিংয়ে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, বিশুদ্ধ পানির সংকট, হলের নিচতলার সামনের ড্রেনে আবর্জনা, হলের গোসলখানায় ময়লা পানি, অপরিচ্ছন্ন শৌচাগার, ব্যায়ামাগারে পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাব, পড়ার কক্ষের আসনসংকট।

পূর্ণাঙ্গ আবাসন সুবিধার লক্ষ্য নিয়ে প্রায় ৪৩ বছর আগে কুষ্টিয়ায় প্রতিষ্ঠিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন। আসনসংকটের জন্য প্রতিটি হলেই রয়েছে গণরুম। এসব কক্ষে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে থাকছেন। ছাত্রী হলগুলোতে এই সংখ্যা বেশি। এর বাইরে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশকে যথাক্রমে ২২ ও ২৪ কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ শহরে থাকতে হচ্ছে। নিরাপত্তাঝুঁকিসহ নানা সমস্যা নিয়ে মেসে থাকছেন তাঁরা।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি আছে আবাসনসংকট। সব শিক্ষার্থীর জন্য আসন ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের আশানুরূপ যে জীবনমান, সেটা নিশ্চিত করা যায়নি।

হলগুলোর চাহিদা নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর। যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ খোলা হয় তখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যায়। আর তখন প্রয়োজন হয় আবাসিক হলের। কাজেই নতুন বিভাগ খোলার আগেই শিক্ষার্থীদের আবাসিক সমস্যা নিয়ে পরিকল্পনা করা যেতে পারে। তার আগে বর্তমান হলগুলোর মান উন্নয়ন করতে হবে। হলের ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করতে হবে। হলগুলোর মানোন্নয়ন করতে বোধ হয় খুব বেশি অর্থেরও প্রয়োজন হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা থাকলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।



সাতদিনের সেরা