kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মাঠ উদ্ধার করুন

মিরপুরে মানববন্ধন

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুস্থ, সুন্দর ও আনন্দময় জীবনের জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এর জন্য প্রয়োজন ভালো পরিবেশ। একটা সময় ছিল, যখন ফাঁকা জায়গা, খেলার মাঠ এবং স্কুল-কলেজের চত্বর খেলাধুলায় মুখর থাকত। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে হাই স্কুল, মাদরাসা, কলেজ, এমনকি বিভিন্ন শহরে স্টেডিয়াম নামধারী মাঠের ভেতরে ও বাইরে ছোট-বড় অংশ দখল, খেলাধুলার পরিবর্তে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক কাজে এবং ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার লক্ষ্যে নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এই অসুস্থ সংস্কৃতি বিস্তৃত হচ্ছে সর্বত্র।

ঢাকা শহরে একসময় অনেক খেলার মাঠ ছিল। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) জরিপচিত্র তুলে ধরে কালের কণ্ঠে গত এপ্রিলে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, ঢাকা শহর থেকে গত ২০ বছরে ১২৬টির বেশি মাঠ হারিয়ে গেছে। ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি মাঠের সংখ্যা ২৩৫। এর ১৪১টি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ। কলোনির মাঠ আছে ২৪টি, ঈদগাহ মাঠ আছে ১২টি। এসব মাঠ সাধারণ কিশোর-তরুণরা ব্যবহার করতে পারে না। সেখানে সবার প্রবেশাধিকার নেই। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় সাধারণ মানুষ ব্যবহার করতে পারে এমন মাঠ আছে মাত্র ৪২টি। ঢাকা শহরে খেলার মাঠের ঘাটতি ও চাহিদা পর্যালোচনা শীর্ষক এক জরিপে বলা হয়েছে, প্রতিবছর কমছে মাঠের সংখ্যা। আরেকটি জরিপে বলা হয়েছে, ঢাকায় মানুষের অনুপাতে সবচেয়ে কম মাঠ আছে মিরপুর দক্ষিণে। এ এলাকায় যে কয়েকটি মাঠ আছে তার আয়তন মাত্র ২২.৩৮ একর। জনসংখ্যার অনুপাতে আরো ১২৬.০৭ একরের মতো খেলার জায়গা দরকার ওই এলাকায়। এই মিরপুরেই গত সোমবার মাঠ উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে হাজারো মানুষ।

প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, মিরপুর ১১ নম্বরের প্যারিস রোডসংলগ্ন খেলার মাঠটি উদ্ধারের দাবিতে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা দলবদ্ধভাবে এসে মানববন্ধনে যোগ দেন। মাঠ পুনরুদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলর সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ১৯৬৩ সালে এই স্থানকে খেলার মাঠ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তবে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন গণপূর্তমন্ত্রী ক্ষমতার অপব্যবহার করে আবাসিক প্লট হিসেবে তা বরাদ্দ দেন। চিহ্নিত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ৩২ জনকে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়। মাঠ হিসেবে চিহ্নিত জায়গায় এর আগে বস্তি উঠেছে, এখন ভবন নির্মাণের পাঁয়তারা চলছে।

একসময় ঢাকায় অনেক খেলার মাঠ ছিল। সেই মাঠগুলো ধীরে ধীরে উধাও হয়ে গেছে। এলাকার মানুষের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মিরপুরের মাঠটি উদ্ধার করুন।



সাতদিনের সেরা