kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

এই অপসংস্কৃতি বন্ধ হোক

শিক্ষার্থীদের দিয়ে চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই সব জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব। জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যরা জনগণের পক্ষে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখবেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রতিনিধির সেই চিরচেনা সংজ্ঞাটি যেন পাল্টে গেছে। অবশ্য সবাই যে একই রকম করেন, তা নয়।

বিজ্ঞাপন

তবে কিছু সংসদ সদস্যের কর্মকাণ্ড সরকারকে রীতিমতো বিব্রত করছে। এ রকমই একটি বিষয় হচ্ছে সংবর্ধনা। সারা দেশেই বিষয়টি যথেষ্ট সমালোচিত হয়েছে। অনেক জনপ্রতিনিধিকেও বিব্রত হতে হয়েছে। এর পরও সংবর্ধনা থেমে নেই।  

আবার এ ধরনের সংবর্ধনা আয়োজনে জনপ্রতিনিধিদের সাড়াও মিলছে। কারণ সাড়ম্বর আয়োজনের লোভ সংবরণ করা অনেকের জন্যই কঠিন। সাম্প্রতিক সংবর্ধনাকাণ্ডটি ঘটেছে পটুয়াখালীর দুমকীতে। সেখানে শিক্ষার্থীদের দাঁড় করিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলার একটি ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা পরিষদে (অ্যাডহক কমিটি) প্রথমবারের জন্য এই চেয়ারম্যান মহোদয় সভাপতি মনোনীত হওয়ায় ওই কলেজ মাঠে গণসংবর্ধনা ও সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ওই সংবর্ধনা উপলক্ষে অন্তত সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান বন্ধ ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, উপজেলা চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানাতে একটি বিদ্যালয়ের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছিল তোরণও। শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষক-কর্মচারীদেরও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসতে বাধ্য করা হয়েছে।

এ ধরনের সংবর্ধনার ঘটনা এটাই যে প্রথম তা নয়। এ সরকারের আমলেই যে এজাতীয় সংবর্ধনা-সংস্কৃতি চালু হয়েছে, এমনটি মনে করারও কোনো কারণ নেই। জনপ্রতিনিধিদের সংবর্ধনা অনেক আগে থেকেই চলে আসা একটি রীতি। সংবর্ধনার নামে স্কুলের শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হয়েছে। কিন্তু সংবর্ধনা ব্যামোটি থেকে মুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। সংবর্ধনা থেমে থাকছে না। আয়োজনের ঘাটতিও খুব একটা কম চোখে পড়ছে না।

জনপ্রতিনিধিদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিশুদের রাস্তায় দাঁড় করানো যাবে না বলে নির্দেশনা রয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। এখন এ ধরনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আইন করে বন্ধ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা তখনই সংবর্ধিত হয়েছেন, যখন জনগণ তাঁদের নির্বাচিত করেছে। এখন সেই সংবর্ধনার জবাব দেওয়ার সময়। নিজেদের কাজের ভেতর দিয়ে জনগণের ভালোবাসার মূল্যায়ন করতে হবে। এর বদলে ফুলের মালা গলায় দিয়ে সংবর্ধনা মূল্যহীন। সমালোচিত এই সংবর্ধনার ব্যাপারে জনপ্রতিনিধিদের বোধোদয় কবে হবে?



সাতদিনের সেরা