kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

অবিলম্বে দখলমুক্ত করুন

বিদ্যালয়ের মাঠে ব্লক নির্মাণ

১৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিশুদের শিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। বলা হয়ে থাকে, শিশুদের পরিপূর্ণ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য আনন্দময় শৈশবের বিকল্প নেই। সে কারণেই বিদ্যালয়ে পাঠের পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ রাখা হয়। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়, বিভিন্ন উপলক্ষে হাটবাজার বসানোসহ নানা ধরনের কাজে বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এসব সূত্রে মাঠ বেদখল হয়ে যায়। তখন শিশুরা সেই মাঠে প্রবেশ করতে পারে না। খেলাধুলা করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠেও এমন একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। খবরে বলা হয়েছে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উত্তর বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নদীতে ফেলার জন্য ইট-পাথর-সিমেন্ট মিশিয়ে ব্লক তৈরি করা হচ্ছে। পুরো মাঠে হাজার হাজার ব্লক তৈরি করে সেগুলো সারি করে রাখা হয়েছে। রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী। শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করার সুযোগ পাচ্ছে না। নির্মাণসামগ্রী বোঝাই ট্রাক ও যন্ত্রপাতির আওয়াজে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, উত্তর বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্থানীয় শ্মশানঘাটের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শুক নদী। সেই নদীর পার রক্ষায় মাসখানেক ধরে বিদ্যালয়ের মাঠে চলছে ব্লক নির্মাণের বিশাল কর্মযজ্ঞ। টাঙ্গন ব্যারাজ, বুড়ির বাঁধ ও ভুল্লী বাঁধ সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন, তীর সংরক্ষণ, সম্মিলিত পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে ৮৩০ মিটার বাঁধ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে সাত কোটি ৭৭ লাখ ৮১ হাজার ৩৩৪ টাকা। সরেজমিন পর্যবেক্ষণেও দেখা গেছে, ব্লক নির্মাণের এমন কর্মযজ্ঞের কারণে খেলার মাঠটি নষ্ট হয়ে গেছে। অর্ধশতাধিক শ্রমিক স্কুল মাঠে ছাউনি করে থাকছেন এবং রান্না, খাওয়াদাওয়াসহ যাবতীয় কাজ করছেন। যানবাহন, যন্ত্র ও শ্রমিকদের শোরগোলে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ায় মনোযোগ দিতে পারছে না। শুধু তা-ই নয়, ঠিকাদারের লোকজন বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ লাইন ব্যবহার করছেন অবৈধভাবে। সন্ধ্যার পর বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে বসে যায় নির্মাণ শ্রমিকদের মাদক সেবনের আড্ডা। এতে এলাকাবাসীর মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কাজের মান নিয়েও তাদের অনেক অভিযোগ আছে।

ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে ঠিকাদার এই কাজ করছেন। তাঁরা কি বিদ্যালয়ের মাঠে এই কাজ করার আগে শিক্ষা বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মাঠ ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছেন? যদি অনুমতি না নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে অবিলম্বে এই কাজ বন্ধ করা হোক এবং সব ব্লক সরিয়ে নিয়ে মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করা হোক। আমরা আশা করি, স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

 



সাতদিনের সেরা