kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সহিংসতা রোধ করুন

নড়াইলে বাড়িঘর ভাঙচুর

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সারা দেশেই কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। সমাজের কিছু মানুষও যেন দিন দিন অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে। বাড়ছে গুরুতর অপরাধের ঘটনাও। মামুলি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি, এমনকি ঝগড়া-বিবাদ থামাতে গিয়েও একের পর এক ঘটছে হত্যাকাণ্ড।

বিজ্ঞাপন

আহত হচ্ছে অনেকে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়ছে অপরাধ।

এক শ্রেণির মানুষ পুলিশ প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, মানবিক মূল্যবোধ—কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। সামান্য কারণেই যখন খুনের ঘটনা ঘটছে, তখন বলতে হবে মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বেড়ে গেছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, গত শনিবার রাতে নড়াইল সদর উপজেলার কর্মচন্দ্রপুরে গ্রাম্য কোন্দলের জেরে হাতুড়িপেটায় এক কিশোরের মৃত্যু হয়। এরপর ২৫ বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। পুলিশ গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

প্রকাশিত খবর থেকে যতটুকু জানা গেছে, তাতে বলা যেতে পারে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। গত ৯ আগস্ট সকালে একটি গ্রুপের হামলার শিকার প্রতিপক্ষের এক কিশোর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সন্ধ্যায় মারা গেলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

হামলার শিকার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যার পরপর আশপাশের কয়েকটি গ্রামের ভাড়া করা লোক এসে হামলা চালায়। তাদের বেশির ভাগের মুখে গামছা বাঁধা ছিল। হামলার আঁচ পেয়ে ভয়ে পুরুষরা বাড়ির বাইরে পালিয়ে যায়। হামলাকারীরা কোনো কোনো বাড়িতে টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার ভাঙচুর করে। কোনো কোনো বাড়ির আলমারি ভেঙে সোনা ও টাকা নিয়ে যায়। ২৫টি বাড়ি তছনছ করে টাকা, সোনা ও মালপত্র লুট করা হয়।

সামাজিক অসহিষ্ণুতাই মূলত এজাতীয় অপরাধপ্রবণতার জন্য দায়ী। নড়াইলের এই ঘটনা তারই প্রমাণ। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সহজ কোনো পথ কি খোলা আছে? আমরা দেখি, যখনই কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটে, তখন প্রচলিত আইনের সহযোগিতা নেওয়া হয়। কিন্তু প্রচলিত আইনে বিচার করলেই কি সমাজ থেকে সব অপরাধ দূর হয়ে যাবে?

দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীগুলোকে আরো সক্রিয় ও তৎপর হতে হবে। একই সঙ্গে সমাজকেও পরিশুদ্ধ করতে হবে। অস্থিরতা দূর করে সহিষ্ণু সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

 

 



সাতদিনের সেরা