kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

দেশকে এগিয়ে নিতে হবে

জাতীয় শোক দিবস

১৫ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশকে এগিয়ে নিতে হবে

আজ ১৫ই আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। বাঙালির হৃদয়ভাঙা শোকের দিন আজ। ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালির মুক্তি ও স্বাধিকারের জন্য যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, হাজার বছরের সেই শ্রেষ্ঠ বাঙালিকে জীবন দিতে হয়েছিল এই দিনে।

বিজ্ঞাপন

শুধু তাঁকে নয়, সেদিন হত্যা করা হয় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাসায় থাকা তাঁর পরিবারের সবাইকে, এমনকি তাঁর শিশুপুত্রকেও। সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল শেখ ফজলুল হক মনি, আবদুর রব সেরনিয়াবাতসহ আরো অনেককে। সেনাবাহিনীর একটি দলছুট অংশ সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিলেও ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় সেদিন কারা কারা পেছন থেকে কলকাঠি নেড়েছিল। কারা সেদিন যোগ দিয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধীদের এই জঘন্য ষড়যন্ত্রে।

সদ্যঃস্বাধীন দেশটিতে তখন চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল শুধুই ধ্বংসস্তূপ, পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার ছাপ। রাষ্ট্রীয় কোষাগার শূন্য। ছিল না দক্ষ প্রশাসন। এরই মধ্যে পাকিস্তান কারাগারের ফাঁসির মঞ্চ থেকে রক্ষা পেয়ে বঙ্গবন্ধু ফিরে এসেছিলেন বাংলাদেশে। শুরু করেছিলেন দেশ গঠনের নতুন সংগ্রাম। মাত্র সাড়ে তিন বছরে পাহাড়সম বাধা অতিক্রম করে দেশকে তিনি নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। ঠিক তখনই হায়েনারা রাতের অন্ধকারে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। বাহ্যত দলছুট কিছু সেনা সদস্যকে কাজে লাগালেও পেছনে ছিল অনেক বড় নীলনকশা। ব্রিটিশ সাংবাদিক মাসকারেনহাসসহ অনেকেই তুলে ধরেছেন সেই ষড়যন্ত্রের অনেক অজানা কথা। কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে কবে, কখন ঘাতক রশিদ বৈঠক করেছিলেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে। খন্দকার মোশতাক এবং একটি প্রভাবশালী দেশের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত কিভাবে ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়েছিলেন—অনেক কিছুই স্পষ্ট হয় পরবর্তী ঘটনামালা থেকে।

বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে চাকরি দিয়ে ঘাতকদের পুরস্কৃত করা, ইনডেমনিটির ঘোষণা দিয়ে খুনিদের বিচার রোধের অপচেষ্টা, স্বাধীনতাবিরোধী শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী করা, একাত্তরের ঘাতক আব্দুল আলীমসহ রাজাকার-আলবদরদের মন্ত্রী করা, গোলাম আযমকে দেশে ফিরিয়ে এনে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করা—এমন অনেক ঘটনাই প্রমাণ করে পঁচাত্তরের ষড়যন্ত্রে কারা যুক্ত ছিল।

১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি আইন বাতিল করলে প্রচলিত আইনে হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায়ও উঠে আসে ষড়যন্ত্রের নানা দিক। বিচারের রায় অনুযায়ী কয়েকজন খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। কিছু খুনি বিদেশে পালিয়ে আছে। তাদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার মাধ্যমে জাতিকে সম্পূর্ণরূপে কলঙ্কমুক্ত করতে হবে। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় নেতাদের হত্যাকারীরাই নয়, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ঘাতক ও দালালদেরও বিচার ও যথাযোগ্য শাস্তি হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ঘটনায় ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারী এবং মদদদাতাদের’ চিহ্নিত করে বিচারের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি ‘কমিশন’ গঠন করার দাবিও এখন প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি আমরা। আমরা চাই, দ্রুত সেই দাবি বাস্তবায়িত হোক। ইতিহাসের জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচিত হোক। ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। হয়তো চলতেই থাকবে। স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী সব ষড়যন্ত্র কঠোরভাবে মোকাবেলা করে দেশকে এগিয়ে নেব—এটাই হোক জাতীয় শোক দিবসের শপথ।



সাতদিনের সেরা