kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন

ফ্যামিলি কার্ডে দুর্নীতির অভিযোগ

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। এ অবস্থায় সরকার নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে করোনাকালে ‘দুই হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা’ কর্মসূচির সাড়ে ৩৮ লাখ এবং নতুন সাড়ে ৬১ লাখ উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

গত মার্চ-এপ্রিলে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) সেই কার্ড বিতরণ করে। এরই মধ্যে এই কার্ডে পণ্য সরবরাহ শুরুও হয়েছে। কিন্তু কার্ড বিতরণ ও পণ্য সরবরাহ—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে এমন অনেক তথ্য।

প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ৩৫টি জেলায় ‘টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা জরিপটি পরিচালিত হয়। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে পরিচালিত এই জরিপে অংশ নেয় এক হাজার ৪৭ জন উপকারভোগী, যারা করোনাকালে প্রদত্ত ‘দুই হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা’ কর্মসূচির উপকারভোগী ছিল। তাদের ৩৯.৫ শতাংশই ফ্যামিলি কার্ড পায়নি বলে জানিয়েছে। উত্তরদাতাদের ৮০ শতাংশ মনে করে, তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। উপকারভোগী ব্যক্তিদের বাদ পড়ার পেছনে যেসব কারণ রয়েছে বলে জানা যায় তার মধ্যে আছে—ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে তথ্য না জানা, তালিকা তৈরিতে স্বচ্ছতার ঘাটতি, সচ্ছল ব্যক্তিদের কার্ড দেওয়া, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয়স্বজনকে কার্ড দেওয়া, তদবির না থাকা এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় বাদ দেওয়া। অনেকে অভিযোগ করে, ফ্যামিলি কার্ড পেতে ঘুষও দিতে হয়েছে। এই কার্ড দিয়ে পণ্য কেনার ক্ষেত্রেও রয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ। ডিলার বা বিক্রয়কর্মীরা ৪০ থেকে ৫০ টাকা অতিরিক্ত নেন বলে অভিযোগ করেছে অনেকে। কার্ডে পণ্য দেওয়া হয় প্যাকেজে। একবার তিনটি পণ্যের প্যাকেজের জন্য নেওয়া হয়েছে ৪৬০ টাকা, আরেকবার চারটি পণ্যের জন্য নেওয়া হয়েছে ৫৬০ টাকা। একসঙ্গে এত অর্থ জোগাড় করতে না পারায় অনেকে প্যাকেজের পণ্য কিনতে পারেনি। এ ছাড়া নিম্নমানের পণ্য বিক্রির সময় লাইন না মানা, সিরিয়াল আসার আগেই পণ্য শেষ হয়ে যাওয়া, নির্ধারিত সময়ে ট্রাক না আসার মতো অভিযোগও করেছে অনেকে।

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দাম যেভাবে বেড়েছে তাতে শুধু নিম্ন আয়ের মানুষেরই নয়, বেশির ভাগ মধ্যবিত্তেরও নাভিশ্বাস উঠেছে। আর নিম্ন আয়ের অনেক মানুষকে খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। এই অবস্থায় ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে কয়েকটি পণ্য বিক্রির যে উদ্যোগ টিসিবি নিয়েছে, সেটি নিম্ন আয়ের মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু এখানেও যদি অনিয়ম-দুর্নীতি জাঁকিয়ে বসে, তাহলে পুরো উদ্যোগের সাফল্য ম্লান হয়ে যাবে। আমরা আশা করি দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগগুলো সঠিকভাবে তদন্ত করবে এবং দুর্নীতিতে যাঁদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 



সাতদিনের সেরা