kalerkantho

রবিবার । ১৪ আগস্ট ২০২২ । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৫ মহররম ১৪৪৪

লেভেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা বাড়ান

বাড়ছে দুর্ঘটনা ও মৃত্যু

৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লেভেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা বাড়ান

রেলপথে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে একেকটি অরক্ষিত লেভেলক্রসিং যেন একেকটি মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ট্রেন ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ১১ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এর আগের সপ্তাহে গাজীপুরের শ্রীপুরে লেভেলক্রসিংয়ে পোশাক কারখানার কর্মী বহনকারী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেছে পাঁচজনের, আহত হয়েছেন ১০ জন।

বিজ্ঞাপন

এমন দুর্ঘটনা যেন নিয়মিত বিষয় হয়ে উঠেছে। চলতি মাসেই লেভেলক্রসিংয়ে ১০টি দুর্ঘটনায় ২৮ জনের প্রাণ গেছে। গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, কুমিল্লায় রেলপথ রয়েছে ১২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে অনুমোদনহীন লেভেলক্রসিং রয়েছে ১৪৩টি। রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সাড়ে পাঁচ বছরে এখানকার রেলপথে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৩৩৪ জনের, আহত হয়েছেন ৫০০ জন। সারা দেশে হতাহতের সংখ্যাও প্রায় একই রকম। শত শত মানুষের এই অকালমৃত্যু রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা বা সরকারের নীতিনির্ধারকদের ভাবিত করে কি?

মানুষ বাড়ছে। বাড়ছে চলাচলের প্রয়োজনীয়তা। গড়ে উঠছে নতুন নতুন সড়কপথ। এসব রাস্তা বা সড়কের অনেকটিই রেলপথের ওপর দিয়ে চলে যায়। তৈরি হয় লেভেলক্রসিং। এসব সড়ক তৈরি করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি), ইউনিয়ন পরিষদ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কেউই লেভেলক্রসিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয় না। নেওয়াটা বাস্তবসম্মতও নয়। অন্যদিকে রেলওয়ে একটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান। এর রয়েছে জনবল সংকট। সারা দেশের সব লেভেলক্রসিংয়ে পর্যাপ্ত জনবল দিতে পারছে না। ফলে অনেক লেভেলক্রসিংকে তারা অনুমোদন দিচ্ছে না কিংবা সেগুলোর নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বড়জোর ‘নিজ দায়িত্বে পার হোন’ ধরনের সাইনবোর্ড দিচ্ছে। তাতে কি এসব লেভেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা বন্ধ থাকবে?

জানা যায়, সারা দেশে লেভেলক্রসিং রয়েছে মোট তিন হাজার ৩৯৮টি। এর মধ্যে এক হাজার ৩৬১টিই অবৈধ। অহরহ এসব স্থানে দুর্ঘটনা ঘটছে। বৈধ লেভেলক্রসিংয়েও কর্তব্যরতদের অবহেলায় অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। চালকদের অসচেতনতাও দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ। অনেক চালক গেটবার নামানোর সময়ও তাড়াহুড়া করে গাড়ি ঢুকিয়ে দেয়। ট্রেন আসছে দেখেও রেললাইন পার হতে চান। এমন দুর্ঘটনার সংখ্যাও কম নয়। আবার রেলপথে কাঁটাতার বা ফেন্সিং না থাকায় রেলপথে বাজার বসে, মানুষ চলাচল করে। এতে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর সংখ্যাও ক্রমেই বাড়ছে।

প্রতিটি মৃত্যুই দুঃখজনক। প্রতিটি পরিবারকে দীর্ঘ সময় ধরে এই শোক বহন করতে হয়। রেলওয়েসহ সরকারের শীর্ষ মহলকে মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি ভাবতে হবে। উন্নত বিশ্বের আদলে প্রতিটি লেভেলক্রসিংয়ে স্বয়ংক্রিয় গেটের ব্যবস্থা করতে হবে। রেলওয়েতে পর্যাপ্ত লোকবলের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে গাড়িচালকদেরও সচেতন হতে হবে।



সাতদিনের সেরা