kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন

নৃশংস হত্যাকাণ্ড বাড়ছে

৫ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আমাদের সমাজে অপরাধপ্রবণতা বেড়েছে। সামাজিক অপরাধের পাশাপাশি পারিবারিক অপরাধের মাত্রাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। সমাজজীবন থেকে সামাজিক বন্ধনগুলো ক্রমেই আলগা হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পারিবারিক বন্ধন শিথিল হচ্ছে। ক্ষয়ে যাচ্ছে সব ধরনের মূল্যবোধও।

বিজ্ঞাপন

এরই কুফল পড়তে শুরু করেছে সমাজের সর্বত্র। ফলে সামান্য কারণেই ঘটে যাচ্ছে খুনাখুনি। বাড়ছে নিষ্ঠুর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।

আমাদের সবারই প্রত্যাশা শান্তিপূর্ণ, মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্মানবোধসম্পন্ন একটি সুন্দর সমাজ। অথচ ঘটছে উল্টোটা। সামাজিক অপরাধ ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। মানুষের নিরাপত্তাবোধ হারিয়ে যাচ্ছে। বাইরে চলাচল তো নয়ই, ঘরে বসবাসও নিরাপদ থাকছে না। সামাজিক এই অস্থিরতা ও পারিবারিক নৃশংসতা নিরসনে সমন্বিত অনেক উদ্যোগ প্রয়োজন। কিন্তু তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবরগুলো যেন সমাজের এই অধোগতিকেই ইঙ্গিত করছে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের উজান গোপীন্দী পশ্চিমপাড়া এলাকায় শনিবার দিবাগত রাতে এক মা ও তাঁর শিশুপুত্রকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পুকুরঘাটের দখল নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে তাঁর চাচাতো ভাই কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ‘মায়ের হাতে’ খুন হয়েছে এক শিশুকন্যা। রাঙামাটির লংগদুতে এক নারীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিজের বাড়িতে এক বিধবা মা ও তাঁর একমাত্র শিশুপুত্রকে হত্যা করা হয়েছে। মানুষ কতটা জঘন্য হলে এমন কাজ করতে পারে, ভাবতেও কষ্ট হয়।

দেশে মূল্যবোধের এমন অবক্ষয় এক দিনে হয়নি। সামাজিক অসহিষ্ণুতাই ক্রমবর্ধমান অপরাধপ্রবণতার জন্য দায়ী। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সহজ কোনো পথ খোলা আছে বলে মনে হয় না। যখনই কোনো অপরাধের ঘটনা ঘটে, তখন প্রচলিত আইনের সহযোগিতা নেওয়া হয়। অপরাধ যেই করুক, তার কঠোর শাস্তিই কাম্য। এসব ঘটনা থেকে এটা স্পষ্ট হচ্ছে যে নির্মমতা-নৃশংসতা দিন দিন বাড়ছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করা যায় না বলেই আমাদের সমাজে অপরাধ এক ভয়ানক রূপ নিচ্ছে। জঘন্য অপরাধীরা সমাজকে কলুষিত করছে। মানুষের মানবতাবোধকেও লাঞ্ছিত করছে।

আমরা চাই, দ্রুততম সময়ে এসব নৃশংসতার বিচার সম্পন্ন হোক এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।



সাতদিনের সেরা