kalerkantho

রবিবার । ১৪ আগস্ট ২০২২ । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৫ মহররম ১৪৪৪

নাগরিক সুবিধা বাড়াতে হবে

খুলনা মহানগরে দুর্ভোগ

৩০ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একটু উন্নত জীবনের আশায় মানুষ নগরে এসে ভিড় জমায়। উপার্জন বা অর্থনৈতিক কারণেও বহু মানুষ নগরজীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়। ফলে নগরে জনবসতির ঘনত্ব অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু নগর যদি পরিকল্পিত না হয়, নাগরিক সুবিধাদির অভাব খুব বেশি হয়, তখন মানুষের ভোগান্তির কোনো সীমা থাকে না।

বিজ্ঞাপন

প্রায় এমনই অবস্থা হয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন বা কেসিসিতে। এক গবেষণা জরিপে দেখা গেছে, এখানে বসবাস করা নিম্ন আয়ের ৮২ শতাংশ মানুষই নিরাপদ পানিপ্রাপ্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত এবং ৫৯ শতাংশ পরিবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছে। শুধু তা-ই নয়, নগরীর ৯১ শতাংশ পরিবার সিটি করপোরেশনের বর্জ্য সংগ্রহের সেবা থেকে বঞ্চিত। ৩৮ শতাংশ পরিবারের টয়লেট সরাসরি নর্দমার সঙ্গে সংযুক্ত এবং ৬০ শতাংশ পরিবার খোলা জায়গায় তাদের বর্জ্য ফেলে। এমনটি কোনোক্রমেই নগরজীবনের কাঙ্ক্ষিত মান হতে পারে না।

সিটি করপোরেশনে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর নাগরিক চাহিদা পূরণে পরিবেশগত সক্ষমতা তৈরি ও পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে গৃহীত গবেষণা জরিপের এমন ফলাফলই তুলে ধরেছে বেসরকারি সংস্থা সুশীলন ও পরিবর্তন। গত মঙ্গলবার খুলনার বিএমএ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে সুপেয় পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে নাগরিক জীবনে যে ভোগান্তি হচ্ছে তার ২০টি কারণ চিহ্নিত করা হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে—কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতার অভাব, অপর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও ভাঙা ডাস্টবিন, নর্দমায় সরাসরি বর্জ্য ফেলা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজব্যবস্থা ও পানি সরবরাহব্যবস্থা, নিম্ন আয়ের লোকজন বসবাস করে এমন এলাকায় সিটি করপোরেশনের সেবাগুলোর অত্যধিক ঘাটতি, হাট-বাজার নিয়মিত পরিষ্কার না করা, আইনবহির্ভূত অবকাঠামো ও ভূমির ব্যবহার, সিটি করপোরেশনের জনবল সংকট, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদনে উদ্যোগের অভাব ইত্যাদি।

শুধু কেসিসি নয়, প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতি রয়েছে অন্যান্য সিটি করপোরেশনেও। আর দেশের অনেক পৌরসভার অবস্থা আরো খারাপ। অনেক পৌরসভায় প্রচণ্ড দুর্ভোগ নিয়ে মানুষ বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। খুলনার মতো একটি প্রধান সিটি করপোরেশনে নিম্ন আয়ের ৮২ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি সরবরাহের আওতায় আসবে না, এটা ভাবা যায় না। অনিরাপদ পানি পান করে তাদের অনেকেই হয়তো নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। আবার ৯১ শতাংশ পরিবার বর্জ্য সংগ্রহ সুবিধার আওতার বাইরে থাকলে সেই নগরীর পরিবেশ কেমন হবে তা সহজেই অনুমেয়। তারা যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলতে বাধ্য হবে। সেগুলো নগরজুড়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করবে। আমরা আশা করি, খুলনা মহানগরীতে পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা তৈরি করতে কেসিসি দ্রুত ও পরিকল্পিত উদ্যোগ নেবে।

 



সাতদিনের সেরা