kalerkantho

মঙ্গলবার। ৯ আগস্ট ২০২২ । ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১০ মহররম ১৪৪৪

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ভাঙচুর

২৯ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০২০ সালের ৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছিলেন, দেশের একটি মানুষও গৃহহীন বা ভূমিহীন থাকবে না। তাঁর এই ঘোষণার পর সারা দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ভূমি ও গৃহহীনদের বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উপহার হিসেবে প্রতিটি গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবারই পাচ্ছে দুর্যোগ-সহনীয় সেমিপাকা ঘর, আর ২ শতাংশ জমির মালিকানা।

বিজ্ঞাপন

সরকারের একটি শুভ উদ্যোগ এই আশ্রয়ণ প্রকল্প।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরকারের কল্যাণকামী ভাবমূর্তি একটি বিশেষ পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার কথা। সব মহল থেকেই এই প্রকল্পের প্রশংসা করা হলেও অল্পসংখ্যক মানুষের কারণে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, যা খুবই হতাশাব্যঞ্জক। গৃহনির্মাণ প্রকল্পে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের কাজের পাশাপাশি উপকারভোগীদের কাছ থেকে টাকা ও নির্মাণসামগ্রী নেওয়ার খবর এসেছে গণমাধ্যমে। অনেক ঘরমালিকের অভিযোগ, এসব ঘর তৈরিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক ঘরের জানালার পাল্লা পর্যন্ত লাগানো হয়নি। দেয়াল ফেটে যাচ্ছে। মেঝের সিমেন্টের পলেস্তারা উঠে যাচ্ছে। হস্তান্তরের শুরু থেকে অনেক ঘরে ছিল না পানি ও বৈদ্যুতিক সংযোগের ব্যবস্থা। বর্ষা শুরুর পর কিছু এলাকায় ঘর ভেঙে যাওয়া এবং ফাটলের ঘটনা গণমাধ্যমে এসেছে। কারো কারো বিরুদ্ধে তালিকা অনুযায়ী ঘর না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে ভূমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দেওয়া আশ্রয়ণের ঘর মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া দিয়ে চলছে রমরমা বাণিজ্য। দুর্নীতি ও প্রভাব খাটিয়ে ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন এমন অনেকেই সচ্ছল। তাঁদের অনেকেই এসব ঘরে বসবাস না করে ভাড়া দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে অসহায় মানুষ সরকারি এসব ঘরপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের কিছু ঘর নির্মাণের পরপরই ভেঙে যাওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কথা বলেছেন। জানিয়েছিলেন, কিছু লোক হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ঘর ভেঙে গণমাধ্যমে দিয়েছে। বাস্তবেও তেমনটি ঘটেছে সম্প্রতি। সাটুরিয়া উপজেলার রৌহা আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মাণাধীন ঘরের পিলার ভেঙে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। গত বৃহস্পতিবার কাজ শেষে বিকেলে নির্মাণ শ্রমিকরা ফিরে যান। শুক্রবার ছিল ছুটির দিন। শনিবার সকালে কাজ করতে এসে শ্রমিকরা দেখেন আটটি ঘরের নির্মাণ করা বারান্দার পিলার ভেঙে মাটিতে পড়ে রয়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আগ্রহের প্রকল্প হিসেবেই বিবেচিত হয়। সরকারের অর্জনকে ম্লান করার জন্য এমন ধ্বংসাত্মক তৎপরতা চালানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা চাই, যারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ক্ষতিসাধন করছে, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক। সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

 

 

 



সাতদিনের সেরা