kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

উন্মোচিত হলো নতুন দিগন্ত

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন

২৬ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উন্মোচিত হলো নতুন দিগন্ত

এভাবেই বিজয়ডঙ্কা বাজে, রচিত হয় ইতিহাস। বিজয়ী জাতি বিশ্বকে দেখিয়ে দেয় ‘আমরাও পারি’। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে বাঙালি জাতি দেখিয়ে দিয়েছিল। ২০২২ সালে বাঙালি আবার দেখিয়ে দিল জাতির সক্ষমতা।

বিজ্ঞাপন

অপার সম্ভাবনার বাংলাদেশে সমৃদ্ধ আগামীর যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল একদিন, অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে সেই স্বপ্ন সত্যি হলো গতকাল শনিবার। লেখা হলো নতুন ইতিহাস। এ দেশের মানুষ সেই ইতিহাসের নায়ক, উদ্বোধনী ভাষণে যে কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের সমর্থন আর সাহসেই তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের কঠিন কাজটি সম্ভব করতে পেরেছেন।

পদ্মা সেতু সত্যিকার অর্থেই এক স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতো উন্নয়ন সহযোগী সরে যাওয়ার পর বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয় বাংলাদেশকে। তখন আরো অনেক উন্নয়ন সহযোগী সরে যায়। দুর্নীতির মামলা হয়। সরে যেতে হয় তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রীকে। জেলে যেতে হয়েছিল তৎকালীন যোগাযোগসচিবকে। দেশের ভেতরে কিছু রাজনৈতিক দলও তোলে দুর্নীতির অভিযোগ। দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিও সোচ্চার হন। নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখন অনেকেই বলেছিলেন, এই দুঃসাহস দেখানো অর্থহীন। দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। হুমকির মুখে পড়বে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, দেশের মানুষ সঙ্গে থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখাবেন তিনি। শনিবার পদ্মা সেতু উদ্বোধন শেষে মাদারীপুরের শিবচরে আওয়ামী লীগের জনসভায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন থেকে সরে যাওয়ার পর জনগণের ‘সাহস ও শক্তি’ নিয়েই সেতুর কাজ শুরু করেছিলেন তিনি।     

বলার অপেক্ষা রাখে না, আজকের দিনটির অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশের মানুষ। সেতু উদ্বোধনের পর পদ্মার দুই পারে মানুষের যে উচ্ছ্বাস, যে আবেগের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে, এককথায় তা অনন্য। পদ্মা-স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পর দুই পারের মানুষ এখন নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। এ স্বপ্ন এক নতুন দিনের, নতুন শুরুর। সমৃদ্ধির এক নবযাত্রার নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশের মানুষ। এই যে পুরো দেশ একটি রেখায় যুক্ত হলো, এ আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে।

এই আনন্দের রেশ ধরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যে সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, সেই সম্ভাবনাকে সত্যি করতে হবে। দেশের অর্থনীতিতে নতুন যুগের যে সূচনা হতে যাচ্ছে, সেই যুগযাত্রায় সবাইকে সঙ্গী হতে হবে।



সাতদিনের সেরা