kalerkantho

শনিবার । ১৩ আগস্ট ২০২২ । ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৪ মহররম ১৪৪৪  

বাংলাদেশের মর্যাদার প্রতীক

পদ্মা সেতু উদ্বোধন আজ

২৫ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশের মর্যাদার প্রতীক

প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর আজ ২৫ জুন শনিবার উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দেশের দীর্ঘতম পদ্মা সেতু। বাংলাদেশের মর্যাদার প্রতীক এই সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সেতুর দুই পারে নানা আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন তিনি। এই সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে।

বিজ্ঞাপন

জনপদের চালচিত্র বদলে দেবে বলেই একে বলা হচ্ছিল ‘স্বপ্নের সেতু’। পদ্মার দুই পার বাঁধল ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে জোড়া লাগল রাজধানী।

৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকার পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে নিজস্ব অর্থায়নে; যদিও শুরুতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ দেওয়ার কথা ছিল এই সেতুতে। কিন্তু দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন স্থগিত করে। শ্রেণিবিশেষ জল ঘোলা করতে উঠেপড়ে লাগে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের টাকায় এই সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বব্যাংকের সেই অভিযোগ তোলার পেছনে যে একটি ষড়যন্ত্র ছিল, তা বিভিন্ন সময় বলে আসছেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেওয়ার পরও সংশয় ছিল অনেকের মনে। এই সেতুকে এখন বাংলাদেশের ‘সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক এবং অপমানের প্রতিশোধ’ হিসেবে তুলে ধরছেন শেখ হাসিনা। গত বুধবার গণভবন থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ যে পারে’ পদ্মা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৫ সালে ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণযজ্ঞ শুরু হলেও তার পরিকল্পনা আরো আগের।

পদ্মা সেতু চালু হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিশেষ করে দক্ষিণ বাংলার অর্থনীতিতে পড়বে ব্যাপক প্রভাব। দীর্ঘদিন পর সড়ক ও রেল—দুই পথেই দক্ষিণ বাংলার মানুষ অল্প সময়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবে। এর ফলে এই প্রথমবারের মতো পুরো দেশ একটি সমন্বিত যোগাযোগ কাঠামোতে চলে আসবে। দক্ষিণ বাংলার গ্রামেও পরিবর্তনের হাওয়া লাগবে। ২১টি জেলার কৃষক, মৎস্যজীবী, তাঁতি, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভোক্তার সমাবেশ যে রাজধানী ঢাকা তার সঙ্গে অনায়াসে সংযুক্ত হতে পারবে। অন্যদিকে তারা রাজধানী থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে পারবে তাদের গ্রামের ও আশপাশের এসএমই উদ্যোগগুলোর জন্য। দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক উৎপাদন, সেবা, পর্যটন, শিল্প-বাণিজ্যেও বিনিয়োগ বাড়বে। বাড়বে কর্মসংস্থান। ২১ জেলায় মানুষের আয়-রোজগার ও জীবনের মান বাড়ার প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতে পড়বে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণাঞ্চলের জিডিপি অন্তত ৩.৫ শতাংশ বাড়বে। আর দেশের জিডিপি বাড়বে অন্তত আরো ১.২৬ শতাংশ। ট্রান্স-এশিয়ান রেল ও সড়ক এই সেতুর মাধ্যমেই যুক্ত হবে। শুরুতে ২৪ হাজার যান চলাচল করবে এই সেতু দিয়ে। প্রতিবছর তা বাড়বে। এডিবি বলছে, ২০৫০ সালে ৬৭ হাজার যান চলাচল করবে এই সেতু দিয়ে। জরিপে আরো বলা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যেই পাঁচ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুবিধা পাবে এই সেতুর কল্যাণে। দক্ষিণাঞ্চলের দারিদ্র্য প্রতিবছর ১ শতাংশেরও বেশি হারে কমবে। অর্থাৎ সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে আমাদের যাত্রা আরো ত্বরান্বিত হবে। এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

 



সাতদিনের সেরা