kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ জুলাই ২০২২ । ২১ আষাঢ় ১৪২৯ । ৫ জিলহজ ১৪৪৩

পথ দেখাচ্ছে তরুণরা

বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ তৎপরতা

২২ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পথ দেখাচ্ছে তরুণরা

সিলেট বিভাগসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলা বন্যাকবলিত। কোনো কোনো জায়গায় বন্যার পানি নেমে যেতে শুরু করলেও মানুষের দুর্দশা কমেনি। অনেক এলাকায় দুর্গতদের কাছে ঠিকমতো সাহায্যও পৌঁছে দেওয়া যায়নি। জনপ্রতিনিধিরা ত্রাণ দিচ্ছেন না, খোঁজখবরও নিচ্ছেন না—এমন অভিযোগ বন্যার্ত অনেক মানুষের।

বিজ্ঞাপন

পেশাগত কাজে গণমাধ্যমকর্মীরা কোনো এলাকায় গেলে ত্রাণ পাবেন ভেবে ছুটে আসছেন অনেকে। মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও সেখানে রয়েছে খাবার ও সুপেয় পানির সংকট। খাবার পানির জন্য ছুটছে মানুষ। জরুরি ওষুধ খাওয়ার জন্যও পানিবন্দি মানুষ পানি পাচ্ছে না। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ডসহ স্থানীয় প্রশাসন ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে। সরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। আশ্রয়কেন্দ্রে শিশু ও বয়স্করা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমন অবস্থায় বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানো ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

এই মানবিক বিপর্যয়ের সময় এগিয়ে এসেছে বেসরকারি অনেক সংগঠন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্যার্তদের সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। নিজেরা দাঁড়িয়েছেন দুর্গত মানুষের পাশে। ব্লগার, ইউটিউবারসহ লেখক-শিল্পী-প্রকাশকরাও বন্যার্তদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। শুকনা খাবার নিয়ে দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাচ্ছেন ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা। বন্যাকবলিতদের বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন। সিলেটের বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে তরুণ গায়ক তাশরীফ খান ও তাঁর ব্যান্ড ‘কুঁড়েঘর’। এরই মধ্যে ১৬ লাখ টাকার তহবিল গঠন করে আপাতত বন্যাকবলিতদের শুকনা খাবার—মুড়ি, বিশুদ্ধ পানি, গুড়, মোমবাতি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ফিটকিরিসহ আরো কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস প্যাকেট করে দুর্যোগকবলিতদের মাঝে পৌঁছে দিচ্ছে তারা। পেশায় আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য ফেসবুকে পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে আহ্বান জানান। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে এক দিনের মধ্যে ৭০ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এই টাকা পেয়ে তিনি চলে গেছেন সিলেট ও সুনামগঞ্জের দুর্গত এলাকায়। তাঁর সঙ্গে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ত্রাণসামগ্রী ও খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন বানভাসিদের কাছে।

বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিলে শুরুতেই ত্রাণের প্রয়োজন পড়ে। বন্যার পানি নেমে যাওয়া শুরু করলে দেখা দেয় নতুন সংকট। এ সময় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে ব্যাহত হয় স্বাস্থ্যসেবা। অন্যদিকে পানি কমে যাওয়ার পর মানুষ বসতভিটায় ফিরতে শুরু করলে শুরু হয় নতুন সংগ্রাম। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামতের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকট দেখা দেয়। কাজেই বন্যার পানি কমতে শুরু করলে ত্রাণ তৎপরতা আরো জোরদার করতে হবে। আর এই কাজে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ তরুণদের সম্পৃক্ত করতে হবে। পরিকল্পিত ও সমন্বিত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জীবন রক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

 



সাতদিনের সেরা