kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ জুলাই ২০২২ । ২১ আষাঢ় ১৪২৯ । ৫ জিলহজ ১৪৪৩

প্রত্যাবাসনই সমাধান

রোহিঙ্গাদের ‘গো হোম’ কর্মসূচি

২১ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দ্রুত দেশে ফিরে যাওয়ার দাবিতে গত রবিবার কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয় ক্যাম্পগুলোতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু। রোহিঙ্গাদের ‘গো হোম’ কর্মসূচিতে তারা নানা প্ল্যাকার্ড বহন করেছে বিশ্ববিবেকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। তাতে তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস, উই ওয়ান্ট রাইটস, উই ওয়ান্ট টু গো ব্যাক টু আওয়ার মাদারল্যান্ড’সহ আরো অনেক দাবি তোলে।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে।

বিজ্ঞাপন

এতে এলাকাটির প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন ধ্বংস হচ্ছে, তেমনি স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনও হুমকির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের কক্সবাজারে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও পাহাড়ের বড় এলাকাজুড়ে এখন রোহিঙ্গাদের বসতি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে পরিবেশ ও প্রাণিবৈচিত্র্য ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে। ছোট-বড় হাজার হাজার গাছ কাটা হয়েছে। কক্সবাজার বন বিভাগের পুরনো এক গবেষণা বলছে, উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় বন ধ্বংসের কারণে পরিবেশগত ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদি। শুধু পরিবেশের ক্ষতিই নয়, রোহিঙ্গারা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে। এলাকার শান্তি নষ্ট হচ্ছে। মাদক চোরাচালান বেড়েছে। বেড়েছে ক্যাম্পভিত্তিক বিভিন্ন অপরাধমূলক তৎপরতাও। আশ্রয়শিবিরগুলোতে গুম, খুন, ধর্ষণ, অপহরণ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলা ক্যাম্পগুলো চলে যায় সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দখলে। অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গেও এই সন্ত্রাসীরা যুক্ত। আর এ জন্যই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিলেও মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করছে না। এটা তো স্বীকৃত সত্য যে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে মিয়ানমারকেই। নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা দিতে হবে। সম্মানজনক পুনর্বাসনে জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মিয়ানমার সরকারের বরাবরই আগ্রহের যথেষ্ট ঘাটতি আছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তাই যথাযথ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরো বাড়ানো জরুরি।

বাংলাদেশের মতো একটি দুর্বল অর্থনীতির দেশের পক্ষে দীর্ঘকাল ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার ভার বহন করা সম্ভব নয়। তদুপরি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদসহ বিভিন্ন অপরাধীচক্র রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধ নেটওয়ার্ক তৈরিতে তৎপর রয়েছে। স্থানীয় সন্ত্রাসীরাও তাদের দলে টানার চেষ্টা করছে। আবার বেসরকারি সংস্থার ছদ্মবেশেও অনেকে অনেক রকম উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছে। তাই রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা আরো জোরদার করতে হবে।

আমাদের প্রত্যাশা, বিশ্বসম্প্রদায় সেভাবেই এই সংকট মোকাবেলায় উদ্যোগী হবে।

 



সাতদিনের সেরা