kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

দখলদার উচ্ছেদে ব্যবস্থা নিন

ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প

২৬ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুখ থুবড়ে পড়েছে ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প। ১৫ হাজার ফ্ল্যাট বরাদ্দের কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে মাত্র দুই হাজার। আবার সেখানেও রয়েছে অনিয়মের অভিযোগ। প্রকল্প অনুমোদনের দুই যুগ পরও কাজ শেষ হয়নি।

বিজ্ঞাপন

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা মহানগরীর ছিন্নমূল ভাসমান বাস্তুহারাদের একত্র করে মিরপুরের ভাসানটেকে সরকারি জমিতে বসবাসের ব্যবস্থা করেন। তাদের পুনর্বাসন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর আর ভাসানটেক বস্তিবাসীর পুনর্বাসন হয়নি।

১৯৯৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিনা নোটিশে আকস্মিকভাবে ভাসানটেক বস্তির হাজার হাজার বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করা হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশরীরে ভাসানটেক বস্তিতে যান। বস্তিবাসীর আহাজারি দেখে তিনি পুনর্বাসনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি আরো ঘোষণা দেন, পুনর্বাসন না করা পর্যন্ত তাদের উচ্ছেদ করা হবে না। ভাসানটেক বস্তি, আগারগাঁও বস্তি, সোনারগাঁও হোটেলের পাশের বস্তিসহ ঢাকার বিভিন্ন বস্তির বাসিন্দাদের পুনর্বাসন করার জন্য ভাসানটেকে সরকারি জমি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। ১৯৯৮ সালের ২৪ মে একনেক সভায় ভাসানটেকে ৪৭.৪ একর সরকারি জমি বিনা মূল্যে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সে সময় ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্প নামে একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০০৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নর্থ সাউথ প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের সঙ্গে ভবন-ফ্ল্যাট নির্মাণের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষে ভূমি মন্ত্রণালয়ের একটি চুক্তি হয়। চুক্তির পর ১৫ হাজার ২৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কথা থাকলেও মাত্র ১২টি ভবনে প্রায় দুই হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু চুক্তিপত্রের শর্ত ভঙ্গ করে বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাট না দিয়ে মনগড়াভাবে অবৈধ পন্থায় ধনী ব্যক্তিদের নামে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্য নিয়ে সেগুলো বিক্রি শুরু করলে বস্তিবাসীদের আন্দোলনের মুখে ভূমি মন্ত্রণালয় চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে।

এখন সেই ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্পে মার্কেট গড়ছেন দখলদাররা। প্রকল্পের জমি দখল করে অর্ধশতাধিক দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকান নির্মাণের সঙ্গে জড়িত সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী। নির্মাণাধীন দোকানের মধ্যে বেশ কয়েকটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। দোকানপ্রতি দুই থেকে সাত লাখ টাকা জামানত নেওয়া হয়েছে। দখলদারদের বিরুদ্ধে পুনর্বাসন প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ভাসানটেক থানায় জিডিসহ একাধিকবার অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে পুনর্বাসন প্রকল্পের লোকজন আতঙ্কে আছে।  

ভাসানটেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল দরিদ্র মানুষের জন্য। যাদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হোক। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

 

 



সাতদিনের সেরা