kalerkantho

সোমবার । ২৭ জুন ২০২২ । ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৬ জিলকদ ১৪৪৩

প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষা করতে হবে

উন্নয়ন পরিকল্পনা

২৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষা করতে হবে

বাংলাদেশ পলিমাটি দিয়ে গঠিত একটি বদ্বীপ অঞ্চল। এখানে রয়েছে অসংখ্য নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয়। এসবের ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, উদ্ভিদ ও প্রাণিজগৎ। নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে গড়ে উঠেছে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও মনমানসিকতা।

বিজ্ঞাপন

এসব কারণে বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যও অন্য সব দেশের থেকে আলাদা। এমনকি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বৈশিষ্ট্যও আলাদা। আমাদের সেই বৈশিষ্ট্যগুলো রক্ষা করে চলতে হবে। অন্যথায় আমরাই আমাদের ধ্বংসের কারণ হব। সেই বাস্তব সত্যটাই তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার প্রকৃতিগত পার্থক্যের বিষয়টি মাথায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশকে আরো ভালো করে চিনতে হবে, জানতে হবে। ’

বাংলাদেশে অতীতে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, এর বেশির ভাগই উপকারের চেয়ে অপকার বেশি করেছে। অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ, সেতু বা অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কারণে অনেক নদী-খালের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ক্রমে সেগুলো মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয়েছে। অনেক এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি যমুনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রেও নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ রয়েছে। সেতুর দৈর্ঘ্য কমাতে নদীর একটি বড় অংশে মাটি দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর কাছে প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষায় উজানে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং ভাঙনের সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, এ কারণে তিনি পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কমাতে দেননি। পরিকল্পনার দুর্বলতা দেখা যায় হাওরের বুক চিরে দৃষ্টিনন্দন সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে। এর ফলে হাওরের পানির প্রবাহ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অতীতে উজানের ঢলের পানি যত দ্রুততার সঙ্গে নেমে যেত, এখন সময় লাগছে তার চেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে এ বছর ফসলের ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে এক মিটারের বেশি। তাতে বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যাবে। গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০১০ অনুযায়ী, ১৯৯০ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ১৮ বছরে বাংলাদেশে শুধু সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের। ক্ষয়ক্ষতির এই পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। স্বাস্থ্য খাতেও নেমে আসবে বড় ধরনের বিপর্যয়। সেসব বিপর্যয়ের কথা মাথায় রেখেই বাংলাদেশে ডেল্টা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন ধাপে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ সেভাবেই এগিয়ে চলেছে। আমাদের সব উন্নয়ন প্রকল্প ডেল্টা পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করেই এগিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী মূল পরিকল্পনায়ও পরিবর্তন, পরিমার্জনের প্রয়োজন হতে পারে।

আমরা আশা করি, প্রকল্প পরিকল্পনায় পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিতে আমাদের নীতিনির্ধারকরা আরো বেশি গুরুত্ব আরোপ করবেন। পাশাপাশি হাওরে নির্মিত সড়কের মতো যেসব প্রকল্প পরিবেশের স্বাভাবিকতা বিনষ্ট করছে, সেগুলোর ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।



সাতদিনের সেরা