kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

বাজার সামলাতে ব্যবস্থা নিন

খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি

২২ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজার সামলাতে ব্যবস্থা নিন

বিশ্বের পণ্য বাজারে প্রভাব ফেলেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। বাড়ছে সব ধরনের পণ্যের দাম। চাপে পড়ছে সাধারণ মানুষ।

বিজ্ঞাপন

কালের কণ্ঠে গত শুক্রবার প্রকাশিত এক খবরে বলা হয়েছে, ভরা মৌসুমেও চালের দাম বাড়ছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। খুচরা পর্যায়ে সব ধরনের চাল কেজিতে দুই থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। টিসিবির বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে চালের দাম কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় কম্পানিগুলো ধান কিনে মজুদ করছে। অন্যদিকে ছোট ও মাঝারি মজুদদার এবং মিল মালিকরাও মজুদের পথে ঝুঁকছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।  

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির গতি মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে কিছুটা কমলেও টানা তিন মাসের মতো সার্বিকভাবে এ মাসেও বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। গত মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬.২২ শতাংশ। এপ্রিলে এসে তা দাঁড়ায় ৬.২৯ শতাংশে, যা দেড় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৬.৩৯ শতাংশ হয়েছে, মার্চ মাসে এ খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬.০৪ শতাংশ। গ্রামে মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৫৯ শতাংশ, যা মার্চ মাসে ছিল ৬.৫২ শতাংশ।

বাজারে যখন খাদ্যপণ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে, তখন মজুদের একটি প্রবণতা দেখা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে এ প্রবণতা আমরা দেখেছি সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধির সময়। বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার সময়ই এক শ্রেণির ব্যবসায়ী তেল কিনে মজুদ করেন। এক পর্যায়ে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়। বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ধান উৎপাদন মৌসুমে বাজারে চালের দামে অস্থিরতা থাকার কথা নয়।

বিশ্ব আজ নতুন এক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। বৈশ্বিক বিপণনব্যবস্থাই আজ এক নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে। বাংলাদেশ এর বাইরে নয়। এখন বাংলাদেশকে নিজের বাস্তবতার নিরিখে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মজুদদারি ঠেকাতে সরকারকে বাজার মনিটরিংয়ে জোর দিতে হবে। বিশ্ববাজারের সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা যাতে চালের বাজার অস্থির করতে না পারেন, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে।

মূল্যস্ফীতির কারণে সার্বিক জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়। এর প্রভাব গরিব মানুষের ওপরই বেশি পড়ে। তাদের আয়ের বড় অংশই চলে যায় খাদ্যপণ্য কিনতে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আমদানি ঠিক রেখে সাপ্লাই চেইন সচল রাখার মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বয়। সেই দক্ষতা সরকারকেই দেখাতে হবে। বাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সঠিক ব্যবস্থা নেবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।



সাতদিনের সেরা