kalerkantho

রবিবার । ৩ জুলাই ২০২২ । ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ । ৩ জিলহজ ১৪৪৩

দ্রুত খননের উদ্যোগ নিন

সিলেটের দুঃখ সুরমা-কুশিয়ারা

২১ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গত দুদিনে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। জেলার সব উপজেলা আগেই বন্যাকবলিত হয়েছে। এখন শহরেরও বেশির ভাগ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। জকিগঞ্জ উপজেলার অমলসিদে এলাকায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উৎসমুখে থাকা কুশিয়ারা নদীর ডাইক বা নদী রক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে ভেঙে যায়।

বিজ্ঞাপন

ভাঙন দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকে একের পর এক গ্রাম প্লাবিত করছে। সুরমা ও কুশিয়ারা অববাহিকায় থাকা দক্ষিণের জেলাগুলোও ক্রমেই বন্যাকবলিত হয়ে পড়ছে। সুনামগঞ্জ ও হাওর এলাকায় এপ্রিলের শুরু থেকেই আগাম বন্যা দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতি এখনো বিরাজ করছে।

বৃহত্তর সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তার কারণ উজানে থাকা আসাম অঞ্চলে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। সেখানে প্রবল বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে এবং বন্যা পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সেখানে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আসামের সেই পানি পুরোটাই বাংলাদেশে নেমে আসবে এবং নদীবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়বে। প্রকৃতির এই ব্যবস্থা পাল্টানোর কোনো উপায় নেই। কিন্তু সমস্যা হলো, আমাদের বেশির ভাগ নদী ভরাট হয়ে গেছে। ফলে উজানের পানি নদী দিয়ে নামতে না পেরে দুই কূলের সমতলভূমি প্লাবিত করছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, গত ১০ বছরে সুরমা নদী খননের জন্য অন্তত চারটি সমীক্ষা হয়েছে। কিন্তু নদী খননের কাজ শুরু হয়নি। জানা যায়, এখনো একটি সমীক্ষা চলমান রয়েছে। সমীক্ষার অবশ্যই প্রয়োজন আছে। একই সঙ্গে মূল কাজ অর্থাৎ নদী খননকেও এগিয়ে নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় সুরমা নদীর অনেক স্থানেই চর পড়ে গেছে। অতীতে নদীর যেমন ধারণক্ষমতা বা পানিপ্রবাহের সক্ষমতা ছিল, তার ২০ শতাংশও এখন নেই। একই অবস্থা কুশিয়ারা নদীরও। তাই সুরমা-কুশিয়ারা সিলেটের দুঃখ হয়ে উঠেছে। এই অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি নদীরই অবস্থা একই রকম। শুধু সিলেট অঞ্চল নয়, বগুড়া, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলেও আগাম বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই ডেল্টা পরিকল্পনার আওতায় সারা দেশের নদী খননে মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। প্রতিবছর বন্যায় যে পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়, তা বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধক। এই ক্ষতি আর বাড়তে দেওয়া উচিত হবে না। আমাদের নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। আমরা আশা করি দ্রুততম সময়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 



সাতদিনের সেরা