kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ নয়

রাতারাতি বহুতল ভবন

১৯ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লোভী মানুষের লোভের কোনো সীমা নেই। সামান্য সুযোগ পেলেই তারা লোভের পসরা সাজিয়ে বসে যায়। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সরকার ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) ছয় লেনে উন্নয়নের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করেছে। খবরটি প্রচারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বহু মানুষ সড়ক সম্প্রসারণের আওতায় আসবে এমন জমিতে রাতারাতি বহুতল ভবন তৈরির বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করে দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কারো কারো একতলার ছাদ ঢালাই হয়েছে। আবার কারো কারো চারতলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। উদ্দেশ্য, সড়কের জমি অধিগ্রহণের সময় সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা। সাধারণত কৃষিজমির তুলনায় বসতিসম্পন্ন জায়গার ক্ষতিপূরণ মূল্য বেশি। বহুতল স্থাপনা থাকলে অঙ্ক আরো বড় হয়। স্থানীয়দের মতে, এর পেছনে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ও সাভেয়ারের ইন্ধন রয়েছে। তাঁরাই স্থানীয়দের উসকে দিয়েছেন।

জানা যায়, ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক উন্নয়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ১৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক ঋণ হিসেবে দেবে দুই হাজার ৭০৫ কোটি ৬৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা। বাকিটা আসবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে। এখানে জরিপের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ বাবদ একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। তাতে কৃষিজমি যেমন আছে, তেমনি বাড়িঘরও আছে। এখন কৃষিজমি যদি রাতারাতি বসতি হয়ে যায়, তাহলে অধিগ্রহণ ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। তখন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির প্রশ্ন এসে যাবে এবং প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যাবে। এই ঘটনা যে শুধু এখানেই ঘটেছে তা নয়। অতীতে দেশের অন্যান্য স্থানেও কমবেশি একই ঘটনা দেখা গেছে। সরকার কোনো জমি অধিগ্রহণ করলে রাতারাতি কৃষিজমিতে ঘর তোলার হিড়িক শুরু হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সরকারেরও কৌশলী হওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের লোভী তৎপরতা ঠেকাতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন, যাতে কেউ রাতারাতি কিছু করে অতিরিক্ত সুবিধা নিতে না পারে।

প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে সরকার এমন কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রকল্প কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের জায়গা নির্ধারণের সময়ই পুরো এলাকার দুই দফা ভিডিও সার্ভে করা হয়েছে। সেখানে কার কী ধরনের জমি বা স্থাপনা রয়েছে, তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মাইকিং করে মানুষকে তা জানানো হয়েছে। তারপর সেখানে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণ করে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ের কোনো সুযোগই নেই।

আমরা মনে করি, সরকারকে এ ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে। পাশাপাশি কিছু কর্মকর্তা বা সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে যোগসাজশের যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্ত করে দেখতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

 



সাতদিনের সেরা