kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

সর্বত্র নেওয়া হোক এমন কর্মসূচি

একটি বিদ্যালয়ের অনন্য দৃষ্টান্ত

১৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সর্বত্র নেওয়া হোক এমন কর্মসূচি

একটি বিরল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নড়াইলের শেখহাটি ইউনিয়নের গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা। এলাকায় ধান কাটা শ্রমিকের অভাব তীব্র হয়ে উঠেছে। তার ওপর টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যাচ্ছিল। জমিতেই ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষক ও কর্মচারীরা কৃষকদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। ছুটির তিন দিনে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে তাঁরা ১২ জন কৃষকের ১৫ বিঘা জমির ধান কেটে দিয়েছেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

উন্নত অনেক দেশে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা নানা রকম সমাজকর্মে অংশ নেয়। এটি তাদের শিক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে পরিকল্পিতভাবেই যুক্ত করা হয়। এর উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বিকাশ ঘটানো, অন্যের প্রতি সহানুভূতি, পরোপকার, পারস্পরিক সহনশীলতা, বাস্তব জীবনের উপলব্ধিসহ আরো অনেক লক্ষ্য থাকে এসব কর্মসূচির। এতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশও ত্বরান্বিত হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের শিক্ষা কর্মসূচিতে এ ধরনের সমাজকর্মে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যা হয়েছে, তা একান্তই শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা এবং অন্তর্গত তাগাদা থেকেই হয়েছে। এর আগে কোনো কোনো ছাত্রসংগঠন বা অন্য কোনো সংগঠনের উদ্যোগে এ ধরনের কিছু কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ধরনের সামাজিক কর্মসূচি পরিচালনার দৃষ্টান্ত খুব কমই রয়েছে।

 

আরো পড়ুন :  এবার কৃষকদের দুশ্চিন্তা দূর করল সেই শিক্ষার্থীরা

 

ছুটি বা অবসর সময়ে শিক্ষার্থীরা হয় খেলাধুলা করে কিংবা গল্প করে, আড্ডা দেয়। কখনো কখনো এই সময়ে এ ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা নানাভাবে উপকৃত হয়। এর মাধ্যমে অবসর সময়ের একটি উত্তম ব্যবহার হয়। এমন কর্মকাণ্ড থেকে শিক্ষার্থীরা একধরনের আত্মতৃপ্তি অনুভব করে। তারা যে দেশ ও সমাজের জন্য ভালো কিছু করতে সক্ষম সেই বোধ জন্ম নেয়। তারা যখন বড় কোনো কাজ সম্পন্ন করে তখন তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ে, সংঘবদ্ধতা জন্ম নেয় এবং আরো ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা আসে। পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের চিন্তা-ভাবনার সমন্বয় ঘটানোর ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ খুবই প্রয়োজনীয়।

গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পুথিগত বিদ্যার পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার যে শিক্ষা তাঁদের শিক্ষার্থীদের দিতে সক্ষম হয়েছেন, তার গুরুত্ব অপরিসীম। যে শিক্ষা মানুষের মানবিক গুণাবলির বিকাশ ঘটায় না, দেশপ্রেম শেখায় না, সে শিক্ষা কখনো আদর্শ শিক্ষা হতে পারে না। আমরা আশা করি, সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুরূপ সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত বিকাশ ত্বরান্বিত করা হবে।



সাতদিনের সেরা