kalerkantho

শনিবার ।  ২৮ মে ২০২২ । ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৬ শাওয়াল ১৪৪

সচেতনতার বিকল্প নেই

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে

১৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কয়েক দিন আগেই উদযাপিত হলো পবিত্র ঈদুল ফিতর। এবারের ঈদ যাত্রায় অনেকটাই স্বস্তি এনে দিয়েছিল মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ২৫ লাখ মোটরসাইকেল চলেছে। এর মাধ্যমে সারা দেশে প্রায় কোটি মানুষ যাতায়াত করেছে।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে ১২ লাখ মোটরসাইকেল ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে গেছে। জেলা পর্যায়ে চলেছে ১৩ লাখ মোটরসাইকেল। এ তথ্য হাইওয়ে পুলিশ ও বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির। এর ফলে এবার প্রথাগত গণপরিবহন এবার তাদের কাঙ্ক্ষিত যাত্রী পায়নি। কিন্তু ঈদ যাত্রার শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছিলেন, এবারের ঈদ যাত্রায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে প্রাণহানির ঘটনাও। বাস্তবেও তেমনটি ঘটেছে। ২৬ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত দুর্ঘটনার খবরের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে তাতে বলা হয়েছে, এবারের ঈদ যাত্রায় মোট ১৬৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ১১০ জন। এই হিসাব মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৪.০৮ শতাংশ এবং দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ৩৪.৮৫ শতাংশ ও আহতের প্রায় ১৩.০৩ শতাংশ।  

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৫ এপ্রিল থেকে ৮ মে পর্যন্ত সারা দেশে ১২৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৫৬ জন, যা মোট নিহতের ৪১.৪৮ শতাংশ। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষণ বলেছে, অন্য যানবাহনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটেছে ১৬.১৯ শতাংশ। মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪১.৯৫ শতাংশ। অন্য যানবাহনের মোটরসাইকেলে ধাক্কা বা চাপায় দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৯.০৪ শতাংশ। অন্যান্য কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২.৮ শতাংশ।

গত কয়েক বছরে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বেড়েছে। এবারের ঈদ যাত্রার চিত্র একেবারেই বদলে দিয়েছে এই দুই চাকার বাহনটি। অথচ মোটরসাইকেল গণপরিবহন নয়। গণপরিবহনের বিকল্পও হতে পারে না। রাজধানীতে নগর পরিবহনের বিকল্প হিসেবে মোটরসাইকেল ব্যবহৃত হয়। কিন্তু মহাসড়কে গণপরিবহনের বিকল্প হিসেবে মোটরসাইকেল ব্যবহৃত হতে পারে না। এ ক্ষেত্রেও দেখা যাবে অতিরিক্ত ট্রিপের আশায় বেপরোয়া গতিতে চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটবে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত চালক ও আরোহীদের মধ্যে ৫১.৪২ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ২০ বছর। এই তথ্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত চালকের আসনে তরুণদের একটু বেপরোয়া ভাব পরিলক্ষিত হয়। এই তরুণদের বেশির ভাগেরই ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। অনেকেরই লাইসেন্স প্রাপ্তির বয়স হয়নি। অথচ অভিভাবকরা তাদের হাতে মোটরসাইকেল তুলে দিয়েছেন।

এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায় সচেতনতা। যাঁরা ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েছেন, তাঁদের সতর্কতার সঙ্গে মোটরসাইকেল চালাতে হবে। কোনোভাবেই নিয়মের বাইরে যাওয়া যাবে না। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেওয়া যাবে না।

সচেতনতাই ভবিষ্যতের বড় দুর্যোগ থেকে মুক্তি দিতে পারে।

 



সাতদিনের সেরা