kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে হবে

সরকারি ভূমি দখল

১২ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যে দেশে আইন-কানুনের কোনো বালাই নেই। যে যেভাবে পারে লুটেপুটে খাচ্ছে। আর এই লুটেপুটে খাওয়ার প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়ধারী কিছু প্রভাবশালী। গত দুই দিনে কালের কণ্ঠে এমন তিনটি খবর প্রকাশিত হয়েছে, যেগুলো যেকোনো নাগরিকের কাছেই বড় প্রশ্ন।

বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন—তাহলে দেশে কি এসব লুটপাট বন্ধ করার কোনো ব্যবস্থাই নেই?

প্রকাশিত এসব খবর থেকে জানা যায়, পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আবুল কালাম আজাদ রেলের জমি ইজারা নিয়ে দোকান বানিয়ে ভাড়া দেন। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এসব জমির খাজনাও পরিশোধ করা হচ্ছে না। রেলের জমিতে ব্যক্তি উদ্যোগে শ্রেণি পরিবর্তন করে কিছু করার সুযোগ না থাকলেও তিনি সেখানে একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন এবং রেল কর্তৃপক্ষের আপত্তি অগ্রাহ্য করে দোতলা পর্যন্ত নির্মাণ করেছেন। দুই মাস আগে রেল কর্তৃপক্ষ সেই ভবনসহ আরো ১০টি ভবন উচ্ছেদ করে। এ সময় আবুল কালাম আজাদকে জরিমানাও করা হয়। কিন্তু তিনি তাতে দমে যাওয়ার পাত্র নন। এবার তিনি রেলের প্রায় দুই একর জমিতে খননযন্ত্র ব্যবহার করে পুকুর বানাতে শুরু করেছেন। রেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে তাদের সহযোগিতা চেয়েছে।

অন্য ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায়। সেখানে থাকা আয়চান নদীর চার স্থানে বাঁধ দিয়ে পুকুর বানাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল আলম ও মোয়াজ্জেম হোসেন। নদীর প্রায় ২০০ বিঘা জমি দখল করে চারটি খননযন্ত্র দিয়ে এসব পুকুর কাটা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খননকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। কিন্তু খননকাজ বন্ধ হয়নি বলেই জানা গেছে। তৃতীয় ঘটনাটি ঘটেছে খোদ রাজধানীতে। জানা যায়, আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনের ৩৪ নেতাকর্মী মিলে ভাসানটেক পুনর্বাসন প্রকল্পের জমি দখল করে অর্ধশতাধিক দোকান বানিয়েছেন। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জিডি করাসহ থানায় একাধিকবার অভিযোগ জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ গত ১২ এপ্রিল ভূমি মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভাসানটেক থানাকে চিঠি দেয়। এর পরও নির্মাণকাজও বন্ধ হয়নি।

এমন ঘটনা দু-একটি নয়, অসংখ্য। সারা দেশে এমন অনেক ঘটনা ঘটছে। নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রবাহ বন্ধ করে নদী মেরে ফেলা হচ্ছে। অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। নদীভাঙনে কৃষিজমি, বাড়িঘর বিলীন হচ্ছে। সরকারের খাসজমিতেও মার্কেট বা অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। অবৈধ দখল রোধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।



সাতদিনের সেরা